ভারতে ভ্রমণে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: 9:10 AM, December 14, 2019 | আপডেট: 9:10:AM, December 14, 2019
ছবিঃ সংগৃহীত

নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতের ছয়টি রাজ্যে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে ওই অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

শুক্রবার দেশ দুটি ভারতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করে বলে জানিয়েছে ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভি।

যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়েছে, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে দেশের (ভারতের) কিছু অংশে বিক্ষোভ চলছে। উত্তরপূর্ব ভারতে সহিংস বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে আসাম ও ত্রিপুারায়। গোহাটিতে কারফিউ জারিকরাসহ আসামের ১০ জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। যানবাহনেও হামলার ঘটনা ঘটছে।’

এসব উল্লেখ করে বিবৃতিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, যদি কারও ওই অঞ্চলে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে তাহলে তাদের উচিত হবে সেখানকার স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে সর্বশেষ অবস্থা জানতে হবে। এছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যেসব নির্দেশনা দেয় তা মানাসহ প্রয়োজনে অন্য সময় ভ্রমণের সময় ঠিক করা।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতাতেও ভারতে একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে তারা সাময়িকভাবে আসাম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিক্ষোভের জেরে ভারত সফর বাতিল করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তার মেঘালয়-অরুণাচল সফর বাতিল করেছেন।

সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল সংসদে উত্থাপন করার পর থেকে উত্তরপূর্ব ভারতে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে দুই কক্ষে পাস হয়ে বিলটি এখন আইন।

সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হচ্ছে আসামের রাজধানী গোহাটিতে। বিক্ষোভ চলছে ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুর আর পশ্চিমবঙ্গেও। তাতে পাঁচজনের প্রাণহানিও ঘটেছে।

আসামসহ অন্য রাজ্যগুলোতে কারফিউ জারি করা ছাড়াও কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা নামানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সেনা মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে সেনাবাহিনীকে। বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের দিল্লি সফর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মেঘালয় সফর গত বৃহস্পতিবার শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের গতকাল শুক্রবার সড়কপথে মেঘালয় যাওয়ার কথা ছিল।

এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী আসামের গোহাটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল তার। গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মোদি-শিনজোর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাও বাতিল করা হয়।

মেঘালয় রাজ্যে কারফিউ জারির কারণে সিলেটের তামাবিল দিয়ে ভ্রমণকারীদের যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় আটজন বাংলাদেশি সীমান্ত পার হতে গেলে ভারতের ডাউকি থেকে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) নিয়ে উত্তরপূর্ব ভারত অগ্নিগর্ভ রুপ ধারণ করায় অমিত শাহের শিলং সফর বাতিল করা হয়। আগামী রোববার নর্থ-ইস্ট পুলিশ অ্যাকাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতির। ওই সফরের পর তার অরুণাচল রাজ্যের সফরও বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে এই সংশোধনে গত সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় একটি বিল (সিএবি) উত্থাপন করনে অমিত শাহ। ব্যাপক বিতর্কের পর সেদিন মধ্যরাতে বিলটি পাস হয়। এরপর গত বুধবার রাজ্যসভাতেও বিলটি পাসের পর রাষ্ট্রপতি গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষর করায় সেটি এখন আইন।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ২০১৫ সালের আগে প্রতিবেশী পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ‘ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার’ হয়ে যেসব অমুসলিম (হিন্দু, শিখ, খ্রিষ্টান, জৈন, পারসি ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা) ভারতে গেছেন তাদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।

বিরোধী দলের এমপিরা পার্লামেন্টে মোদি সরকারের প্রস্তাবিত এই বিলটিতে আপত্তি জানালেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি পাসে কোনো বেগ পেতে হয়নি সরকারকে।

বিরোধীরা বলছেন, নতুন আইনের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিক সুরক্ষাকে উপেক্ষা করা হবে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্য আসামসহ উত্তরপূর্ব ভারতে বিক্ষোভকারীদের দাবি, আইনটির মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা সহজেই এ দেশের (ভারতের) নাগরিকত্ব পাবেন। তাতে সংকটে পড়বেন আদি বাসিন্দারা। তবে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, আইনটিতে উত্তরপূর্বের অনেকটা অংশই বাদ দেয়া হয়েছে।