ভারতে সমকাম বৈধ, প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের আমলা এখন চান বিয়ে করতে!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ৪:০২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

টিবিটি সারাবিশ্বঃঐশ্বরিয়া ঋতুপর্ণা প্রধান- উড়িষ্যা রাজ্য সরকারের কর বিভাগের ডেপুটি কমিনার তিনি। ৩৪ বছর বয়সী ঐশ্বরিয়ার আরও একটি পরিচয় হলো, তিনি ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের ব্যাক্তি যিনি সরকারের উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সমকাম বৈধ হওয়ার পর এবার মনের কোণে দীর্ঘদিনের লালিত এক স্বপ্নের পূর্ণতা দিতে চান তিনি। আর তা হলো মনে মানুষের সঙ্গে বিয়ে!

জীবনের শুরু থেকে থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পুরুষের পরিচয়েই পরিচিত ছিলেন ঐশ্বরিয়া। তখন তার নাম ছিলো রতিকান্ত প্রধান। ২০১০ সালে সরকারি চাকরিতেও তিনি ঢুকেছিলেন পুরুষ পরিচয়েই।

২০১৪ সালে ভারতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার এক বছর পর সবার সামনে নিজের আসল পরিচয় তুলে ধরেন ঐশ্বরিয়া। সে বছর নামটিও আনুষ্ঠানিকভাবে পাল্টে ফেলেন তিনি।

ঐশ্বৈরিয়া গত দুই বছর ধরে একইছাদের নিচে বাস করছেন তার প্রেমিকের সঙ্গে। এর এক বছর আগেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তার প্রেমিক। কিন্ত তখন সমকামকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা বিতর্কীত ৩৭৭ ধারার কথা চিন্তা করে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি ঐশ্বরিয়া। এবার সে বাধা কেটে যাওয়ায় ভারতের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের আওতায় প্রেমিককে বিয়ে করতে চান তিনি।

ঐশ্বরিয়ার সেনা কর্মকর্তা বাবা শৈশব থেকেই তাকে বাধ্য করতেন ছেলেদের মতো করে চলতে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজের নারীসত্ত্বা ঠিকই টের পেতেন তিনি। এর মাসুলও বহুবার দিতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব বাধা টপকে ঠিকই নিজের সত্যিকারের পরিচয় নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরে গর্বীত ঐশ্বরিয়া।

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জানান, ‘স্কুলে শিক্ষকেরা আমাকে নিয়ে উপহাস করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বন্ধুরাই আমাকে যৌন হয়রানি করেছে। বাবা আমাকে বাধ্য করতেন পুরুষালি আচরণ করতে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি নিজেকে নারী মনে করতাম। মাঝেমধ্যে আমি মায়ের সোনার গয়না পরতাম। আমার ভালো লাগতো।’

তবে এখন নিজের পরিচয় নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই ঐশ্বরিয়ার। চান প্রেমিককে নিজের জীবনসঙ্গীর মর্যাদা দিতে।

ভবিষ্যতে একটি কন্যাশিশুও দত্তক নিতে চান ঐশ্বরিয়া। তার স্বপ্ন তাদের মেয়ে বড় হয়ে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। নিজের পরিচয় দেবে একজন তৃতীয় লিঙ্গের মায়ের সন্তান হিসেবে।