ভাড়াখাটা সেই রুপালি গিটারের উদ্বোধন করলেন সিটি মেয়র

এস. এম. আকাশ এস. এম. আকাশ

ব্যুরো চিফ,চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৪৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

গিটার নিয়ে পাগলামির অনেক কথা শুরুর দিকে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। তিনি নিজেকে বলতেন ভাড়াখাটা গিটারের ভাড়াখাটা প্রেমিক।

কিন্তু প্রায় ২০ বছর আগে নিউইয়র্কের গিটার সেন্টারের ম্যানেজারকে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছিলেন ‘যে গিটারের জন্য দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু দ্বিতীয়বার বাজায় না।’ গিটার নিয়ে এমন অস্বস্তিকর ঘটনা অনেক বারই ঘটিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু।

তাঁর নিজের ভাষায়, ‘গান নয়, গিটার আমাকে ঘরছাড়া করেছিল। গিটারের জন্যই সংগীতযুদ্ধে নেমেছিলাম। সত্তরের দশকে আমি ভাড়ায় গিটার বাজাতে যেতাম। গিটারটাও ভাড়া নিয়ে যেতাম।

ওই সময় ডিসকো কোম্পানির একটি গিটার আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে ৩০ টাকা দিনপ্রতি ভাড়ায় গিয়ে শো করতাম। ভাড়া হিসেবে ৩০ টাকা দেওয়ার পর আরও ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে যেত। এটা দিয়েই দিন চালাতাম।

এখন কিন্তু আমার নিজের দেশি-বিদেশি ৪০টা গিটার আছে। কিন্তু সেই ভাড়াখাটা গিটারের দিনগুলোর কথা আজও জীবন্ত হয়ে আছে আমার মনে।’ এভাবেই গিটারকে ভালোবেসে প্রকাশ করে গিয়েছেন দেশের প্রতি ভালোবাসা।

বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রতিদান স্বরুপ উদ্বোধন করেন সেই রুপালি গিটার। এছাড়া প্রর্বতক মোড়ের নতুন নাম করা হয়েছে “আইয়ুব বাচ্চু চত্ত্বর।

উদ্বোধনকালে আইয়ুব বাচ্চু চত্ত্বরের আশপাশ ভরে ওঠে তার ভক্তদের উপস্থিতিতে।

এসময় সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন বলেন, জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি রক্ষার্থে স্থাপন করা হলো এই রূপালী গিটার। জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখার অনুরোধ করে তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, এভাবেই প্রত্যেককে দেশ এবং সমাজের জন্য কাজ করে যেতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর সহোদর ইরফান ছট্টু, চসিকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ রেজাউল করিম, চসিক প্রধান কর্মকর্তা শামসুদ্দোহা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা স্ক্রিপট অডিওস ইন্ক এর কর্মকর্তাগণ।

উল্লেখ্য, এই গিটার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। পুরো অর্থের জোগান হয়েছে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সড়কের বিউটিফিকেশন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, দেয়ালে ম্যুরাল ও সবুজায়ন। দুটি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে।