ভিক্টিমের বাড়িতে নয়, টিভি সাংবাদিকদের ক্যামেরা যাক চিহ্নিত অপরাধীদের ঘরে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯

রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, দিবাগত রাতে বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

যে কোনো একটা চাঞ্চল্যকর হত্যার পরপরই টিভি সাংবাদিকরা ক্যামেরা হাতে নিয়ে ছুটে যান ভিক্টিমের বাসা বা বাড়িতে। সেখানকার হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখতে হয় প্রতিবার।

ট্রেডটা বরং এখন বদলে যাক। এবার ক্যামেরা ছুটে যাক চিহ্নিত অপরাধীদের বাসায়।

ছবিঃ সংগৃহিত


ভিক্টিমের বাসার চিত্র কখনো বদলায় না। এ দেশের প্রতিটা মা সন্তান হারিয়ে বিলাপ করেন। মাটিতে বা মেঝেতে হাত চাপড়ে বুক চাপড়ে সন্তানদের নাম মুখে নেন। বিলাপ করতে করতে স্মরণ করেন সন্তানের সাথে তাঁর শেষ স্মৃতি। শেষ কী কথা হয়েছে, সন্তান কী খেতে চেয়েছিল সর্বশেষ, সন্তানের স্বপ্ন কী ছিল সে সব সুর করে করে বলেন প্রতিটা মা।

বাবারা কাঁদেন নিঃশব্দে। তাদের মুখের চেহারা বদলে যায় অবর্ণনীয় যন্ত্রণায়। তারা বিলাপ করেন না বা করতে পারেন না। চোখ দিয়ে অশ্রু ধারা বর্ষণ করতে করতে আশেপাশের মানুষদের বলেন সন্তানের স্বপ্ন বা স্মৃতি। প্রতিটা বাবাই মিডিয়ার মাইকে বলেন “আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। ফাঁসি চাই যারা আমার ছেলে/মেয়েকে হত্যা করেছে।”

পাত্র-পাত্রী বদল হয়, কিন্তু দৃশ্যগুলো সব সময় একই থাকে। কয়েক সেকেন্ডের মিডিয়া ফুটেজে মানুষগুলো যেন একটা নাটকের চেনা চরিত্রে অভিনয় করে ভিন্ন ভিন্ন সময়।

হ্যাঁ, এই দৃশ্য আর না দেখালেও চলে। আমরা কল্পনাতে সন্তান হারানো প্রতিটা বাবা মায়ের আর্তি দেখতে সক্ষম। এবার ক্যামেরা ছুটে যাক ভিন্ন ঠিকানায়।

যে সব নরপশু একেকটা তাজা প্রাণ নিতে পারে অবলীলায় তাদের বাবা মা কে দেখানো হোক টিভিতে।

মাকে প্রশ্ন করা হোক তিনি যে বস্তুটিকে ২৮০ দিন পেটে রেখেছিলেন সেটা এক সময় খুনী হবে ভেবেছেন কখনো? সর্বশেষ বার যখন ছেলেকে খাবার খাইয়েছেন তখন জানতেন তার ছেলের পক্ষে মানুষ খুন করা সম্ভব? খুনীর মা হিসেবে অনুভূতিটা কেমন হচ্ছে?

বাবাকে ধরে আনা হোক ক্যামেরার সামনে।

সন্তানটিকে কীভাবে মানুষ থেকে খুনীতে পরিণত হলো তার জবাবদিহি চাওয়া হোক। প্রশ্ন করা হোক, ছেলের কৃতিত্বে তিনি কতটা গর্বিত?
প্রশ্ন করা হোক, ছেলের কী পরিমাণ শাস্তি তিনি চান?

প্রশ্ন করা হোক, ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হলে তিনি মানতে পারবেন কিনা? প্রশ্ন করা হোক,সন্তানকে মানুষ করার প্রক্রিয়া তিনি ঠিক কোন জায়গায় ব্যর্থ হয়েছিলেন?

সর্বোপরি জানার চেষ্টা করা হোক তার সন্তানটি যখন জেল থেকে বের হয়ে আসবে তখন তিনি তাকে হাসিমুখে বরণ করবেন কিনা? এমন একটি জঘন্য কর্মের জন্য সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন কিনা?

জানি এমনটা করা হলে বেশিরভাগ জবাব হবে মিথ্যে। কারণ অমানুষ সন্তানের বীজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অমানুষ বাবা মায়ের মধ্যেই লুকায়িত থাকে।

তবুও চেহারাগুলো দেখানো হোক। ভিক্টিমের বাবা মাকে দেখিয়ে শোক বর্ষণ করানোর পাশাপাশি আমাদেরকে খানিকটা ঘৃণা বর্ষণের সুযোগ দেয়া হোক।