ভিক্ষার টাকা ঘুষ দিয়েও বিধবা ভাতার কার্ড মেলেনি তহমিনা বেগমের!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২১ | আপডেট: ১১:১৮:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২১

বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের কাঠেরচর গ্রামের বিধবা ভিক্ষুক তহমিনা বেগমকে (৬৫) বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ঘুষ বাবদ ২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুর রব খানের বিরুদ্ধে। ভিক্ষা করে পাওয়া মাংস বিক্রি করে ওই টাকা দেয়া হয়।

তাহমিনা ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নান হাওলাদারের স্ত্রী। আব্দুর রব একই গ্রামের মৃত খাদেম খানের ছেলে এবং কাজিরচর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি।

প্রায় ৩ বছর পূর্বে স্বামী মারা যাওয়া তাহমিনা বেগম। তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান নেই। সহায় সম্বল বলতে একটি ছাপরা ঘর। কোনো স্বজন না থাকায় নিরুপায় হয়ে ভিক্ষা করে জীবন নির্বাহ করেন।

তাহমিনা বলেন, বিধবা ভাতা পেতে বিভিন্ন ব্যক্তির পিছনে ঘুরে কোনো কাজ হয়নি। এক বছর পূর্বে বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার জন্য আব্দুর রব ৩ হাজার টাকা চান। গত ঈদ-উল আযহার দিন বিভিন্ন বাড়ি থেকে ৪ কেজি গরুর মাংস পাই।

ওই মাংস বিক্রি করে ২ হাজার টাকা আব্দুর রবকে দিলে তিনি দুই মাসের মধ্যে বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। তাহমিনা আরো বলেন, ১০ মাস পূর্বে মাংস বিক্রির টাকা দেয়া হলেও রব খান বিধবা ভাতা দেয়নি। টাকা ফেরত চাইলে গালিগালাজ করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দেই।

কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মন্টু বিশ্বাস বলেন, তাহমিনা আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে। তাহমিনাকে বিধবা ভাতায় তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিধবা ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আব্দুর রবকে প্রতারক উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, টাকা দেয়ার কারণে বিধবা ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বিধবা ভাতা তালিকাভুক্তির পূর্বে মাইকিং করাসহ মেম্বরদের মাধ্যমে গ্রামবাসীকে অবহিত করা হয়।

কিন্তু এরপর তারা প্রতারকের কাছে গিয়ে ভাতা তো পানই না, উপরন্তু নিজের টাকাও খোয়া যায়। এ ব্যাপারে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাস জানান, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।

টাকা নেয়ার প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তাহমিনাকে বিধবা ভাতায় তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত আব্দুর রব খানের ব্যবহৃত মোবাইলে রোববার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একাধিকবার কল দেয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।