ভিক্ষা বা চুরি করে হলেও অক্সিজেন আনার ব্যবস্থা করুন: দিল্লি হাইকোর্ট

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২১ | আপডেট: ২:৫৯:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২১

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে ভারত। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে দিল্লির হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের চরম সংকট। এমন পরিস্থিতিতে ভিক্ষা করে, ধার করে, চুরি করে- যেভাবেই হোক, মোদি সরকারকে দেশের হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।

গতকাল বুধবার (২১ এপ্রিল) রাতে এক জরুরি শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে এ নির্দেশ দেন।

বিচারপতি বিপিন সাঙ্ঘি ও রেখা পাল্লি সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ বলেন, গুরুতর অসুস্থ নাগরিকের জীবনের অধিকার রক্ষা করা কেন্দ্রেরই দায়িত্ব। যাদের অক্সিজেন প্রয়োজন, তাদের যে কোনো উপায়ে অক্সিজেনের জোগান দিতে হবে।

দিল্লির বড় হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিতে শুরু করে। সন্ধ্যায় দিল্লির পটপরগঞ্জের ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জানায়, তাদের কাছে মাত্র তিন ঘণ্টার অক্সিজেন রয়েছে। ৪০০ রোগীর মধ্যে ২৬২ জনের জীবন বিপন্ন। দিল্লির জন্য বরাদ্দ অক্সিজেন অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের বক্তব্য, যারা এই কাজ করছেন, তাদের হাতে রক্তের দাগ লেগে থাকবে।

শুনানিতে বিচারপতিরা মনে করিয়ে দেন, একটি মাত্র হাসপাতাল হাইকোর্টে এসেছে। অন্য হাসপাতালেও অভাব রয়েছে। গোটা দেশেই সমস্যা রয়েছে। কেন্দ্র কেন এ বিষয়ে আগে ভাবেনি? এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রের কাছে মানুষের জীবনের তেমন গুরুত্ব নেই। আমরা হতভম্ব যে, সরকার অক্সিজেনের প্রয়োজন নিয়ে ভাবে না।

উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কয়েকদিন আগে শিল্পকারখানায় অক্সিজেন সরবরাহ নিষিদ্ধ করে। অর্থাৎ সংকট মেটাতে চিকিৎসার জন্যই কেবল অক্সিজেন সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ইস্পাত উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অক্সিজেন উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে, তাই তাদের বাইরে থেকে সরবরাহ করা হয় না।

এ নিয়ে বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এখনও ওই সংস্থাগুলোর থেকে অক্সিজেন নিচ্ছে না কেন কেন্দ্রীয় সরকার? আমরা বিস্মিত যে, হাসপাতালে অক্সিজেন ফুরিয়ে যাচ্ছে অথচ ইস্পাত কারখানায় অক্সিজেন যাচ্ছে। কেন সরকারের ঘুম ভাঙছে না? আমরা মানুষকে মরতে দিতে পারি না।’

আদালতের আদেশ, সকল ইস্পাত কারখানা থেকে অক্সিজেন চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে পেট্রোলিয়াম কারখানা থেকেও অক্সিজেন পাঠাতে হবে। আর তাতে প্রয়োজন হলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে।
সূত্র: আনন্দবাজার