ভিডিও ফাঁসের জন্য মোয়াজ্জেম নয়, এক সাংবাদিক দায়ী, ভাইয়ের দাবি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১০:অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯
সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় ওই থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তারের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি ওই ঘটনার ভিডিও ফাঁসের জন্য মোয়াজ্জেম নয়, একজন সাংবাদিককে দায়ী করেছেন।

যশোরের বাসিন্দা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘নুসরাতের বক্তব্য আমার ভাই ভিডিও করেছেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি সে ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করেননি। সেটি প্রকাশ করেছে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক। এটি পিবিআইয়ের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।’

এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভিডিওর ঘটনায় আমার ভাই গ্রেপ্তার হলেও সেই সাংবাদিক কিন্তু এখনো বাইরে আছেন। তাকে সন্ধ্যায়ও টিভিতে লাইভ দিতে দেখলাম।’

ওসি মোয়াজ্জেমের ভাইয়ের দাবি, নুসরাত হত্যার মূল মামলা ও প্রধান আসামিদের বাদ দিয়ে আমার ভাইকে নিয়ে বেশি নড়াচড়া করা হচ্ছে। এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।’

এর আগে নুসরাতের হত্যাকারীদের ধরার জন্য ওসি মোয়াজ্জেমকে ‘পুরস্কৃত করা উচিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তার মা মনোয়ারা বেগম। তার দাবি, ছেলে জীবনে কোনো অন্যায় না করলেও নুসরাত হত্যায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের পৈতৃক বাড়ি যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায়। সেখানে তার বাবা খন্দকার আনসার আলী, মা মনোয়ারা বেগম বাস করেন। তাদের আদি নিবাস ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামে।

পাঁচ ভাই ও এক বোনের পরিবারে ওসি মোয়াজ্জেম সবার বড়। তার এক ভাই সৌদি আরবে এবং আরেক জন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ছোট দুই ভাই ও বিবাহিত বোন পৈতৃক দোতলা বাড়িতে থাকলেও মোয়াজ্জেমের স্ত্রী-সন্তানরা সেখানে থাকেন না।

নুসরাতের ‘ভিডিও ভাইরাল করার’ অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার সাইবার ট্রাইবুনাল। এরপর থেকে গা ঢাকা দেয়া মোয়াজ্জেমকে ২০ দিন পর গতকাল বিকালে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই মামলাটি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। মামলায় অনুমতি ছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা ও তা ভিডিও করা এবং পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ আনা হয় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে।