ভিন্ন জাতে বিয়ে করতে চাওয়ায় মেয়েকে ৩ টুকরো করলেন বাবা!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: 9:23 PM, December 10, 2019 | আপডেট: 9:23:PM, December 10, 2019
ছবি: সংগৃহীত

ভয়ঙ্কর! মেয়েকে কুপিয়ে খুন করে তা স্যুটকেসে ভরে ফেলল বাবা। তারপর সেই দেহ রেখে এল এক অটোতে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মেয়েটির বাবাকে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ে। ভারতীয় পুলিশের বরাতে জানা গেছে, নিহত মেয়েটির বাবার নাম অরবিন্দ তিওয়ারি।

কিন্তু কেন এই খুন ? মুম্বাই পুলিশের জেরায় অরবিন্দ জানিয়েছে, মাস ছয়েক আগে উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর থেকে মুম্বইয়ে আসে তার মেয়ে প্রিন্সি। মুম্বইয়েই সে একটি কেম্পানিতে চাকরি করতে শুরু করে। সেখানেই এক মুসলিম যুবকের প্রেমে পড়ে যায় সে। ওই যুবককে বিয়ে করার জন্য জেদ ধরে বসে মেয়ে। কিন্তু তা মেনে নিয়ে পারেননি অরবিন্দ। কিন্তু কোনওভাবেই তার জেদ ছাড়েনি মেয়ে।

অভিযুক্ত অরবিন্দ তিওয়ারি তার মেয়ে প্রিন্সিকে হত্যার পর তিন টুকরো করে স্যুটকেসে রাখেন। পরে শনিবার রাতে একটি অটোরিকশায় করে পালিয়ে যান। পরদিন ভোরে ওই স্যুটকেস উদ্ধার করে পুলিশ।

৩০ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) অরবিন্দ তিওয়ারিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। রবিবার ভোরে কল্যাণ রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে একটি অটোর ভেতর থেকে ওই স্যুটকেসটি উদ্ধার করা হয়। সেখানকার অটোচালকরাই স্যুটকেসের ব্যাপারে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, স্যুটকেসের ভেতর এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করি আমরা। সেখানে মাথা ছিল না। কোমরের নিচের অংশ ছিল। মরদেহটি তিন টুকরো করা ছিল।

ঘটনার তদন্তে নেমে ওই এলাকার অটোচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। সে সময় এক অটোচালক জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অটোতে এক ব্যক্তি ওই স্যুটকেস নিয়ে উঠেছিলেন। তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনও উত্তর না দিয়ে অটোতে স্যুটকেস রেখে নেমে যান তিনি। এরপর পুলিশকে খবর দেন আশপাশের অটোচালকরা।

এরপর আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। এতে দেখা যায়, ওই একই ধরনের স্যুটকেস নিয়ে ট্রেনে উঠছেন দুজন ব্যক্তি। তবে এর মধ্যে লাল শার্ট পরা এক ব্যক্তি স্টেশনের কাছে একটি শৌচালয়ে ঢুকলেও সেখান থেকে বের হন সাদা শার্ট পরে। তাতেই সন্দেহ হয় পুলিশের।

সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, লাল শার্ট পরা অবস্থায় একটি অটোতে উঠছিলেন ওই ব্যক্তি। ফুটেজে ওই ব্যক্তির চেহারা দেখেই এরপর স্থানীয় এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। শেষমেশ স্যুটকেস উদ্ধারের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের কাছে ধরা পড়েন অরবিন্দ।

প্রসঙ্গত, এই চরম আধুনিক একুশ শতকে এসেও ভারতে এই ধরনের বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটছে হরহামেশাই।