‘ভিসি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯

শাহাদাত সুমন, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টানা দশম দিনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ভিসি অপসারণের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার বিক্ষোভকারী সাত সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল জাবিতে বর্তমান অচলাবস্থার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপু মনির সাথে আলোচনায় বসেন।

অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘গতকাল শিক্ষামন্ত্রী তার বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীদের আমন্ত্রণ জানান। এসময় তিনি আমাদের কাছ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয়গুলো জানতে চান। আমাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সকল বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর সামনে বর্তমান উপাচার্যের দুর্নীতি, অনিয়ম, অযোগ্যতা, একগুয়েমি ও অগণতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর সকল বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রকল্প দুর্নীতি থেকে শুরু করে সকল অনিয়ম আমরা তুলে ধরেছি। শিক্ষামন্ত্রী সকল বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী নিজের জায়গা থেকে কাজ করবেন পাশাপাশি আন্দোলনকারীদেরও ইতিবাচক জায়গা থেকে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেছেন।
তবে উপাচার্য অপসারণের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ছাড়া শুধুমাত্র অনুরোধের প্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।’।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর” ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা বিকেলে পুরনো প্রসাশনিক ভবনের সামনে স্থাপন করা ভিসি অপসারণ মঞ্চে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এবং নতুন ও পুরাতন উভয় প্রশাসনিক ভবনকে সকাল ৯ টা থেকে ৪ টা অবরুদ্ধ করে রাখে। ধর্মঘটের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। এছাড়াও সব অনুষদের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।

অধ্যাপক রায়হান বলেন, “আমরা কখনই আমাদের নিয়মিত প্রোগ্রামটি প্রত্যাহার করব না। যথারীতি এখানে ধর্মঘট ও প্রশাসনিক ভবন অবরোধ থাকবে। উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনকারী এবং শিক্ষার্থীদেরকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিতে চাচ্ছে। আমাদের কর্মসূচির বাইরে যেয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস তালাবদ্ধ করে শিক্ষার্থীদেরকে ভোগান্তির মুখে ফেলে দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের এরকম ন্যাক্কারজনক কাজের নিন্দা জানাই।’