ভুট্টার নানাবিধ উপকারিতা

প্রকাশিত: 8:07 PM, September 3, 2019 | আপডেট: 8:07:PM, September 3, 2019

ভুট্টা খেতে ভালোবাসেন আপনি? না বাসলেও আজ থেকে শপিং মল হোক বা রাস্তার ধারে গাছতলায়, যেখানেই ভুট্টা পাবেন কিনে খেয়ে ফেলুন। এমনিই সারাদিন দৌড়ঝাঁপ, স্ট্রেসে নিজেদের দিকে কম সময়, কম নজর দিতে পারেন। তাই যেটুকুই খাবেন সুস্থ থাকার জন্য খান। অন্তত বেশ কিছু উপকার রয়েছে যে খাবারে, তাতেই মন দিন।

ভুট্টা এমনি খেতে অনেকেই বলেন কোনও স্বাদ পান না, শুধু চিবোতে হয়। তাতে একটু স্বাদ আনতেই নুন, লেবু মাখিয়ে আমরা খাই। এই ভুট্টাতেই এমন সব উপাদান রয়েছে, যা আপনার হার্ট, স্কিন, হাড় সবকিছুরই খেয়াল রাখে, জানেন কি? ভুট্টায় থাকা ফাইবার, ফেরুলিক অ্যাসিড, ক্যারোটিন সহ নানা উপাদান আমাদের পুষ্টিগুণ বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রতি ১০০ গ্রাম ভুট্টায় ১৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২ গ্রাম ফাইবার, ৩ গ্রাম প্রোটিন, ১.৫ এর কম চর্বি এবং ৮৬ ক্যালরি থাকে। চলুন এবার দেখে নেয়া যাক ভুট্টা খাওয়া উপকারিতা ।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে
যতো ফাস্টফুড-নির্ভর জীবন হচ্ছে, ততোই ঘরে ঘরে ক্যানসারের আক্রমণের হার বাড়ছে। অথচ হাতের কাছে ভুট্টা থাকলেও আমরা পাশ কাটিয়ে বার্গার-পিৎজার দোকানে চলে যাচ্ছি। ভুট্টায় থাকা ফেরুলিক অ্যাসিডের মতো যৌগ আমার আপনার ব্রেস্ট এবং লিভারে থাকা টিউমারের সাইজ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভানয়েড থাকে ভুট্টায়। যা ক্যানসারের কোষগুলোকে বাড়তে দেয় না।

গর্ভবতীদের কাজে আসে
মায়ের পেটের ভিতরে যখন সন্তান বাড়তে থাকে, তখন তার যথেষ্ট পুষ্টির দরকার হয়। এদিকে ভুট্টায় থাকে ফলিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড গর্ভে সন্তানের বেড়ে ওঠা এবং পুষ্টির জন্য ভীষণভাবে জরুরি।

কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে
ভুট্টায় ভিটামিন সি, বায়োফ্ল্যাভনয়েড, ক্যারটিনয়েড, ফাইবার থাকে যথেষ্ট পরিমাণে। কোলেস্টরল যেখানে আমাদের নিত্যসঙ্গী, সেখানে ভুট্টায় থাকা এই জিনিসগুলো কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের শিরা-ধমনীও থাকে ঝামেলা মুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই হার্টের সমস্যাও অনেকটাই কম হয়।

কোষ্টকাঠিন্য কমায়
ফাস্ট লাইফ স্টাইল আর ফাস্টফুডে ভরসা করি সবাই। তাই বাড়িতে রান্না করা সবজি এখন আমরা খুবই কম খাই। আর এতে করে পেটের সমস্যা হচ্ছে প্রায়ই। কোষ্টকাঠিন্যের জন্য সারাদিনই যাচ্ছে নষ্ট হয়ে। ভুট্টায় থাকা ফাইবার সহজেই এই সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে। অনেক সময়েই আমাদের পায়ুনালি এবং অন্ত্র সঠিকভাবে পরিষ্কার হয় না, কিন্তু ভুট্টায় থাকা ফাইবার দায়িত্ব নিয়ে এই কাজটা করে দেয়। তাই কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ভুট্টা খেতেই পারেন প্রায়ই।

অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি কমায়
ভুট্টায় আছে প্রচুর পরিমাণে লৌহ বা আয়রন যা রক্তের লোহিত কণার প্রয়োজনীয় খনিজের চাহিদা পূরণ করে।

উচ্চ-রক্তচাপ কমায়
ভুট্টায় রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস যা হাই ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ-রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ
ভুট্টায় থাকা ফাইটোকেমিক্যাল শরীরে ইনসুলিনের শোষণ ও নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত থাকে। ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে।

শক্তি বর্ধক
মিষ্টি ভুট্টা বা ‘সুইট কর্ন’ আঁশ বা ফাইবার জাতীয় শস্য । এতে আছে কার্বোহাইড্রেটের যৌগ। এ কারণে দেরিতে হজম হয় এবং শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
একটা ভুট্টা শরীরে এক টন বিটা ক্যারোটিন সরবরাহ করে যা চোখ ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারি।তবে মনে রাখতে হবে ভুট্টার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও আছে। যেমন– ‘ইনজেস্টিবল প্রোটিন’ থাকায় ভুট্টা থেকে অনেক সময় অ্যালার্জি হতে পারে। বেশি পরিমাণে খেলে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা ভুট্টা খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। অতিরিক্ত ভুট্টা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

হাড় শক্ত করে
জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন থাকে ভুট্টায়। তাই ভুট্টা যত খাবেন, এই মিনারেলগুলো আপনার শরীরে পৌঁছে যাবে। আর এগুলোই আপনার আর্থ্রাইটিসের ব্যথা অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।