ভুয়া পুলিশ সন্দেহে তিন কনস্টেবলকে গণপিটুনি!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৪৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৮

যশোরের ঝিকরগাছায় ভুয়া পুলিশ সন্দেহে তিন কনস্টেবলসহ চারজনকে গণপিটুনি দিয়েছে গ্রামবাসী।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এরপর বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীকে আটক করেছে পুলিশ।

গণপিটুনির শিকাররা হলেন, তিন ডিবি কনস্টেবল মুরাদ হোসেন, শিমুল হোসেন ও মামুন আলী এবং প্রাইভেটকারচালক শাওন। আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর শুক্রবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন ও তার ভাইপো আশাদুল ইসলামকে জখম অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে তারা জখম হয়েছে।

তবে আটককৃতদের দাবি, পুলিশ পিটিয়ে জখম করেছে।

এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ ৪০ জন গ্রামবাসীকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছে। গণগ্রেফতার আতংকে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে মাটিকুমড়া গ্রাম।

যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামে এক মাদক বিক্রেতাকে ধরতে অভিযানে যায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কিন্তু ডিবি পুলিশকে ভুয়া মনে করে গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

গণপিটুনিতে আহত হন তিন ডিবি কনস্টেবল ও প্রাইভেটকারচালক। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

Add Image

SPONSORED

পুলিশ সুপার মঈনুল হক আরও জানান, আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটাতে কোনো চক্র পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি গ্রামের জহিরুল নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে কয়েকজন ব্যক্তির। তারা পুলিশ পরিচয়ে নিরীহ লোকজনে আটক করে অর্থবাণিজ্য করছিল। পুলিশ পরিচয়ধারীরা ওই মাদক ব্যবসায়ীর তথ্যমতে এলাকার নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে আটক করে টাকা দাবি করত। একপর্যায়ে ওই মাদক ব্যবসায়ীর সুপারিশে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হতো।

এছাড়াও গ্রামে ছিনতাই, চুরির ঘটনাও বেড়ে গিয়েছিল। এতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ পরিচয়ে চার ব্যক্তি গ্রামে ঢোকে। টের পেয়ে গ্রামবাসী তাদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তাদের কাছে পরিচয় জানতে চায় গ্রামবাসী। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা ছিল না। গ্রামবাসীর সন্দেহ হয় তারা ভূয়া পুলিশ।

এলাকাবাসীর সঙ্গে তারা বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই চারজনকে গণপিটুনি দেয়। একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে। ওই মাইক্রোবাসে দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্যও ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় ফাঁড়ি ও থানা পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ভুয়া পুলিশ সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনার পর পুলিশ গ্রামে গণগ্রেফতার করছে। অন্তত ৭০-৮০ জনকে ইতিমধ্যে আটকও করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাটিকুমড়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় হাজিরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ও তার ভাইপো আশাদুল ইসলামকে আটকের পর পিটিয়ে হাত পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে পুলিশের গণগ্রেফতারের ভয়ে মাটিকুমড়া গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পুলিশের তৎপরতায় আতংক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। পুলিশের অভিযানে ২-৩টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও গ্রামবাসীর দাবি।

ঝিকরগাছা থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে অভিযানে গিয়েছিল ডিবি পুলিশের দল। গ্রামবাসী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে তিনি ওই এসআইয়ের নাম বলতে পারেননি তাৎক্ষণিকভাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, পুলিশ দুজনকে পিটিয়ে জখম করেছে, এ অভিযোগ সঠিক নয়। ওই দুজন ছাদের ওপর থেকে লাফ দিয়ে পালাতে গিয়ে জখম হয়েছে। পুলিশ তাদের আটক করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।