ভৈরব নদের দুই পাড়ের বাসিন্দারা শৌচাগার থেকে সরাসরি পাইপের মাধ্যমে মলমূত্র ফেলছে নদীতে, পানিসহ দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

শহিদ জয় শহিদ জয়

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৮:৫৫:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

যশোরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদের নব্যতা ফিরিয়ে আনতে কয়েকযুগ পর একদিকে যখন চলছে এর খনন কাজ, ঠিক তখনই নদের দু’পাড়ের বিভিন্ন ক্লিনিক ও শত শত বাসাবাড়ির বর্জ্য ও মানুষের মলমূত্র অপসারণের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে এই নদ। এ অপরাধে শুধুমাত্র পানি নয়, পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। ফলে খনন শেষ হওয়ার আগেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদের অনেক স্থান।

যশোর শহরতলীর খয়েরতলা পালবাড়ী, বাবলাতলা ব্রিজ, দড়াটানা, কাঠেরপুল ব্রিজ, ঢাকা রোড ব্রিজ, বারান্দী পাড়া, মোল্লাপাড়া, নীলগঞ্জ ব্রিজ ও শহরতলীর রাজারহাট ঘুরে দেখা গেছে ভৈরবের এ করুণ চিত্র। দুই পাড়ের বাসিন্দারা সরাসরি পাইপের মাধ্যমে তাদের মলমূত্র নদের মধ্যে ফেলছেন। শৌচাগার থেকে সরাসরি সংযুক্ত করা হয়েছে পাইপগুলো অনেক স্থানে এগুলো সহজে দৃশ্যমান। আবার কোথাও মাটি খুঁড়ে পাইপ বসানো হয়েছে। যা দেখার উপায় নেই। সারিবদ্ধ পাইপ দেখা যায় নীলগঞ্জ এলাকায়। যে পাইপ দিয়া নদের পানিতে পড়ছে মানুষের মলমূত্র।

শুধু ভৈরব পাড়ের আবাসিক ভবন নয়। বাণিজ্যিক ভবন ও বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকের শৌচাগার থেকে মলমূত্র সরাসরি নদের ভেতর অপসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে কাঠেরপুল ব্রিজ থেকে দড়াটানা বকুলতলা পর্যন্ত এ দৃশ্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এই অংশে মলমূত্রের পাশাপাশি মেডিকেলের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদে। কাঠেরপুল এলাকায় পশুর রক্ত উচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে। ভৈরব নদের মত শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে তৈরি করা পানি অপসারণের বাসা বাড়ির মলমূত্র অপসারণ করা হচ্ছে।

পানিতে মানুষের মলমূত্র অপসারণ প্রসঙ্গে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আরএমও আরিফ আহমেদ বলেন, এই পানি আমাদের দেহের জন্যে খুবই ক্ষতিকর। এটা ব্যবহারের ফলে টাইফয়েড ডায়রিয়া জন্ডিস ক্যান্সার হতে পারে। লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পানিবাহিত চর্ম রোগ হতে পারে।

একই কথা বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌসী খাতুন। তিনি বলেন, এই পানি মানবদেহের জন্যে ক্ষতিকর তো বটেই পরিবেশকেও দূষিত করছে।
যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, পরিবেশ আইনে নদের মধ্যে ময়লা ফেলা দ-নীয় অপরাধ। অনেক পূর্বে পৌর এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে। সেখানে কোন প্লান ছিল না। এখন নতুন করে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্লানে শৌচাগারের সেফটি ট্যাংকের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা সরাসরি নদের মধ্যে ময়লা ফেলছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব।

এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, নদের পানিতে এমন ময়লা ফেলা দ-নীয় অপরাধ। খননের সময় চোখে পড়লে ব্যবস্থা নেয়া হবে।