ভোট গণনা নিয়ে ডাক্তারদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি, পুলিশকে মারধর

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ২:৫৫:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার ভোট গণনা চলাকালে দুটি প্যানেলের লোকজনদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়। একটি পক্ষের হামলায় আহত হয় পুলিশের একজন এএসপি মর্যাদার কর্মকর্তা। ঘটনার পর একটি প্যানেলের লোকজন নির্বাচন বয়কট করে চলে যান।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টা হতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শহরের চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাব প্রাঙ্গণে ওই ঘটনা ঘটে যেখানে সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল অংশ নেয়। মধ্যে ২২ জনের প্যানেলের বিপরীতে সভাপতি ছাড়া প্যানেল করে সহ সভাপতি আতিকুজ্জামান সোহেল ও সেক্রেটারি নিজাম আলীর নেতৃত্বে। এদের মধ্যে সোহেল হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। এ ছাড়া সভাপতি হিসেবে স্বতন্ত্র পদে থাকা ডা. শাহনেওয়াজ থাকলেও তিনিও অন্তরালে এ প্যানেলের অধিভুক্ত ছিলেন। অপর প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ সাহা।

এর মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টায় ভোট চলাকালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবু জাফর আহমেদ বিরুর সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন আতিকুর রহমান সোহেল। তাছাড়া একটি অংশ চায়নি নির্বাচন হউক। তারা চেয়েছিলেন সিলেকশনের কমিটি।

দিনব্যাপী ভোটগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও রাত ১১টায় গণনা চলাকালে হঠাৎ করেই একটি ব্যালটকে কেন্দ্র করে চিৎকার করে উঠেন একটি প্যানেলের সহ সভাপতি প্রার্থী আতিকুজ্জামান সোহেল। এক পর্যায়ে সে ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে ভেতরে প্রবেশ করতে যাওয়া বিপরীত প্যানেলের দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ আলী সরকারের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন। তখন সে ইউসুফ জানান, ওই সময় অবধি ভোট গণনায় তারা ভোট প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছিলেন। তারা অন্তত বেশি ভোটে জিতবেন। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ঘটে। পরে ইউসুফ আলীকে মারধর করে সোহেলের সঙ্গে থাকা লোকজন। এ হাতাহাতি পরে রূপ নেয় ইকবাল বাহার ও সোহেলের মধ্যে।

খবর পেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হলে সেখানে তুমুল বাকবিতন্ডা ঘটে। চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়। এ ছাড়া ইকবাল বাহারের সঙ্গে থাকা নারায়ণগঞ্জের বাইরের জেলার একজন এএসপি কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। তিনি ছিলেন সাদা পোশাকে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন শহরের দেওভোগ এলাকার সাগরসহ আরো কয়েকজন যারা মূলত মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত কয়েকজন ডাক্তার জানান, গণনার সময়ে ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ প্যানেল এগিয়ে ছিলেন। এসব নিয়ে বিপরীত প্যানেলের সঙ্গে বাকবিতন্ডার জের ধরেই মারামারি ও হাতাহাতির সূত্রপাত ঘটে।

পরে আতিকুজ্জামান সোহেল ও তার লোকজন ভোটকেন্দ্র থেকে চলে আসে। এ ব্যাপারে ইকবাল জানান, রাত ১১টায় ৩১৫ ভোটের মধ্যে প্রায় দেড় শ ভোটের গণনায় সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আমি ও সেক্রেটারী পদে দেবাশীষ সাহা সহ অন্যরা এগিয়ে ছিলাম। এ কারণেই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হৈ চৈ শুরু করে। এক পর্যায়ে আমাকে ও আমাদের লোকজনদের মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

অপরদিকে আতিকুজ্জামান সোহেল জানান, তাদের জয় যখন নিশ্চিত তখন জোর করে পরাজিত করতেই পরিকল্পনামাফিক আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমরা তখন বয়কট করে কোনোমতে জীবন নিয়ে বের হয়ে আসি।