ভোলার চরফ্যাশনে চলছে জাটকা বিক্রির মহাৎসব

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২০ | আপডেট: ৮:৫৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২০

তৈয়বুর রহমান (তুহিন).চরফ্যাশন,(ভোলা) সংবাদদাতা: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার মেঘনা তেঁতুলিয়া বুড়া গৌড়াঙ্গ নদীতে অভৈধ ভাবে জাটকা ইলিশ ধরে বিক্রি করার মহাৎসব চলছে। এসব জাটকা আবার অবাদে বাজারে বিক্রিও করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও মৎস্য বিভাগের কোনো অভিযান নেই। জাটকা রক্ষায় মৎস্য বিভাগের এমন ভূমিকায় জন মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সচেতন জেলেরা বলছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশ সংকট দেখা দেবে। এতে জেলে পল্লীতেও অভাব দেখা দিবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার, সামরাজ, বেতুয়া, আট কপাট,পাঁচ কপাট, চর কুকরি মুকরি, ঢালচর সহ বিভিন্ন এলাকার মেঘনা তেঁতুলিয়া ও বুড়া গৌড়াঙ্গ নদীতে জেলেরা প্রকাশ্যে কারেন্ট জাল দিয়ে অবাদে জাটকা ইলিশ ধরছেন। এসব জাটকা ভোলার চরফ্যাশনের বিভিন্ন মৎস্য ঘাটে প্রকাশ্যে ডাকে বিক্রিও করা হচ্ছে। এসব ঘাট থেকে জাটকা কিনে এনে চরফ্যাশন পৌর বাজার দক্ষিণ আইচা বাজার , চর কচ্ছপিয়া বাজার আট কপাট বাজার সহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

দক্ষিণ আইচার এক জেলে মো. সোহেল ও কবির বলেন, আমরা প্রতিনিদিনই নদীতে মাছ ধরছি। বড় মাছের আশায় নদীতে জাল ফেলি। জালে জাটকা ধরা পড়ে। আমরা তো বড় মাছের জন্য জাল ফেলি, কিন্তু এ এলাকায় হাজার হাজার জেলে রয়েছে যারা কারেন্ট জাল দিয়ে শুধু জাটকা ধরছেন। মৎস্য কর্মকর্তারা এখানে আসেন না।

চর কচ্ছপিয়া এলাকার জেলে মো. হানিফ ও নজরুল বলেন, এবার মা ইলিশের অভিযানের পর থেকে নদীতে তেমন কোনো ইলিশ পাইনি। অনেক ধার-দেনা ও ঋণে জর্জরিত আছি। নদীতে বড় মাছও নেই। তাই নদীতে যে মাছ পাই তাই ধরি।

দক্ষিণ আইচা এলাকার কয়েকজন মাছ বিক্রেতা বলেন, জেলেরা নদীতে কারেন্ট জাল দিয়ে ছোট ছোট জাটকা ধরে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। আমরা বাধ্য হয়ে তা কিনে নিচ্ছি। কারণ জেলেদের কাছে আমাদের দাদন দেয়া রয়েছে।

চর কুকরি এলাকার সতেচন জেলে মো. মালেক, তাজউদ্দিনসহ একাধিক জেলে বলেন, অসাধু জেলেরা সরকারি কোনো আইন না মেনে কারেন্ট জাট দিয়ে জাটকা ধরছে।

তা আবার মৎস্য ঘাট, হাট-বাজার ও ঢাকার আড়তদারদের কাছে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ সদস্যরা মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে ওই জাটকা জব্দ করলেও মৎস্য বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে না। এতে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের মহাসংকট দেখা দিবে। জেলে পল্লীতে মারাত্মক অভাব দেখা দিবে। তাই আমরা সরকারের কাছে এসব জাটক শিকার ও বিক্রি বন্ধের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান করছি।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজাহারুল ইসলাম জানান, মৎস্য বিভাগ কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়াও তারা পৃথক অভিযানও চালাচ্ছেন। তবে জনবল ও নৌযান সংকটের কারণে তারা পর্যপ্ত অভিযান পরিচালনা করতে পারছেন না