ভ্যাকসিন উৎপাদনে ‘বড় ধাক্কা’ খেলো ভারত

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’ নাম দিয়ে উৎপাদন করছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। এই ইনস্টিটিউটকে বলা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যেই তারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে কোভিশিল্ড রপ্তানি শুরু করেছে। কিন্তু মাঝপথে এসে ভ্যাকসিন উৎপাদনে বড় ধাক্কা খেলো প্রতিষ্ঠানটি।

জানা যায়, সম্প্রতি ভ্যাকসিনের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে সেরামের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় বিপাকে পড়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট।

ইকোনমিস্টের বরাতে স্ক্রল ডট ইন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে তখন এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সামনে এলো যা বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিন উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করার হুমকিতে ফেলেছে। ভারত করোনার মারাত্মক দ্বিতীয় প্রবাহের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জামের সংকট নিয়ে লড়াই করছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদার পুনাওয়ালা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে কাঁচামাল রপ্তানির উপর ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন যার মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের পাইপ এবং ফিল্টার। বাইডেনের উদ্দেশ্যে করা এক টুইটে আদার পুনাওয়ালা লিখেনঃ

“যুক্তরাষ্ট্রের মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আমাদের যদি সত্যিই ভাইরাস মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্যাকসিন শিল্পকে ঐক্যবদ্ধ হতে হয়, তাহলে আমি আপনাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাঁচামাল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য যাতে ভ্যাকসিনের উৎপাদন বাড়তে পারে। বিস্তারিত আপনার প্রশাসনের নিকট রয়েছে।”

অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত ‘কোভিশিল্ড’ ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহ করছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া।
সেরাম হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। সেরামের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ ব্যবহার করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় সেরামে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কাঁচামাল সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তাতে যে ওই সমস্ত দেশগুলোর ভ্যাকসিন প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হবে, তা বলাবাহুল্য।