ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘পিছিয়ে পড়ছে’ বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০ | আপডেট: ৮:১৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০
অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম

চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের তৈরি করা ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল বাংলাদেশে করার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। এরপর প্রায় এক মাস পার হলেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। সর্বশেষ গতকাল বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, চীনের কাছ থেকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কেনা ও বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হবে।

যেহেতু করোনার সংক্রমণ সারাবিশ্বেরই, সেক্ষেত্রে চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরুর প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে বাংলাদেশ দ্রুত ভ্যাকসিন পাওয়া থেকে পিছিয়ে পড়ছে কি না, বাংলাদেশে সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করা উচিত কি না, আমাদের জন্য এটি কেন প্রয়োজন, ট্রায়ালের অনুমোদনে এখন করণীয় কী?

এসব বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, বিএমআরসির কাজ হলো শুধু বৈজ্ঞানিক দিকগুলো দেখা। বাকি কাজগুলো করবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কারণ যেহেতু ভ্যাকসিনটা বিদেশ থেকে আসবে, তাই তাদের একটা ইনভলভমেন্ট থাকে। এখন ফাইলটা সম্ভবত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে আছে। উনি নাকি যাচাই-বাছাই করবেন।

এসব কারণে ভ্যাকসিন পাওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চীনের ভ্যাকসিনটার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য আইসিডিডিআর’বিও প্রপোজাল তৈরি করে বিএমআরসিকে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিএমআরসি অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু এ কাজ শুরু করতে ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন লাগে। নয়তো হবে না। ফাইলটা এখন সেখানেই পড়ে আছে।

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর হচ্ছে। ব্রাজিলে পাঁচ হাজার ও দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপরও হচ্ছে। এখন যারা ভ্যাকসিনটার ট্রায়াল দিচ্ছে, তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই তারা অগ্রাধিকার পাবে। তাদের দেয়ার পরে যখন বাঁচবে, তখন অন্যান্যরা পাবে।

দাতব্য সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমুনাইজেশন (গ্যাভি) যেটা আছে, তারা বিভিন্ন সংস্থা থেকে ডোনেশন পায়। পরে সেগুলো দিয়ে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে গরীব দেশগুলোতে সরবরাহ করে। বাংলাদেশকেও ভ্যাকসিন দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে সেখান থেকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে, যারা কিনে নেবে, তারাই আগে পাবে। পরে বাঁচলে সেখান থেকে ফ্রিতে গ্যাভি পাবে, যোগ করেন এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

সূত্র: ডেইলি স্টার।