ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংগুলো

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১০:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে রাজধানীর কিশোর গ্যাংগুলো। নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়া এসব কিশোর মুখগুলোর কেউ কেউ বিভিন্ন নামিদামী স্কুল-কলেজের ছাত্র, আবার কেউ অছাত্র, গরিব ঘরের সন্তান।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন, ছিনতাই, উচ্চ শব্দ করে মোটরসাইকেল বা গাড়ি রেসিং, অশ্লীল ভিডিও শেয়ার এদের অন্যতম কাজ।

এমনকি পান থেকে চুন খসলে খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সরব হয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংগুলো এখন রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বেপরোয়া কাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে কিশোরদের। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের কৌশলে যুক্ত করা হচ্ছে। এখনই অভিভাবক, শিক্ষক, এলাকাবাসীসহ সব মহলকে সচেতন হতে হবে, নইলে নতুন এই প্রজন্ম পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।
গ্যাং কালচার যেভাবে কেড়ে নিচ্ছে নতুন প্রজন্ম

১৭ বছরের কিশোর মেহেদী হাসান। লেখাপড়া ও খেলাধুলা করার বয়সে সে জড়িয়ে পড়ে দক্ষিণখান এলাকার কিশোরদের গ্যাংয়ে। তার গ্যাংয়ের কিশোরদের বেশিরভাগই অছাত্র, পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল নয় কেউ।

ওই গ্রুপের অধিকাংশই গার্মেন্টস, গ্যারেজ, খাবারের দোকানে কাজ করতো। উপার্জনের টাকা দিয়ে তারা মাদক সেবন করতো। আর উচ্চবিত্ত পরিবারের বখে যাওয়া কিশোরদের বেপরোয়া জীবনযাপন অনুকরণ করতে গিয়ে তারা চুরি-ছিনতাইয়ের পথ বেছে নিত।

নিহত মেহেদী ছিল দক্ষিণখানের শান্ত গ্রুপের সদস্য। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আরাফাত গ্রুপ। ঈদুল ফিতরের ১০-১৫ দিন আগে আরাফাত গ্রুপের সদস্য কাউসার ওরফে কডা শান্ত গ্রুপের মেহেদীকে তুই বলে সম্বোধন করেছিল। পরে মেহেদী আরাফাত গ্রুপের কাউসারকে মারধর করে।

তার কয়েক দিন পর ১৮ই আগস্ট মেহেদীসহ শান্ত গ্রুপের অন্য সদস্যরা আবার আরাফাত গ্রুপের সাইফকে মারধর করে। ৩১শে আগস্ট শান্ত গ্রুপের মেহেদী এবং নাজমুল আরাফাত গ্রুপের তৌকিরের বাম হাতের কব্জিতে ও বুকের বাম পাশে সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এ ঘটনার পর থেকেই আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা মেহেদী ও নাজমুলকে মারার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

ওই দিনই বিকালবেলা কেসি কনভেনশন হলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি জনসভায় শান্ত গ্রুপের লোকজন মিছিল নিয়ে আসার সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা তাদের মিছিলে আক্রমণ করে।

আরাফাত গ্রুপের সানী ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরলে সাইফ ছুরি দিয়ে তার বাম কানের নিচে আঘাত করে। এসময় অন্য সদস্যরা মেহেদীকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে মেহেদীর মৃত্যু হয়। মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে সম্প্রতি আরাফাত গ্রুপের ৮ কিশোরকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

এর আগে গত ২০ মার্চ ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে নাবিল নামে এক স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে জীবন ঢালী নামের আরেক কিশোর। জানা যায়, জীবন উত্তরার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এ বিষয়ে উত্তরার পশ্চিম থানায় মামলা হওয়ার পর জীবনের পরিবার তাকে থানায় নিয়ে পুলিশের হেফাজতে দেয়।

কিশোর জিয়াউল হক অনিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যেও ছিল গ্যাং কালচার। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ওমর ফারুককে গ্রেফতারের পর জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাওয়ার গ্রুপ ও পাওয়ার বয়েজ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।

পুরো উত্তরা নিয়ন্ত্রণ করতে মরিয়া ছিল দুটি গ্রুপ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটাতো তারা

মোবাইলে সেলফি ধারণ করে ফিল্মি স্টাইলে সশস্ত্র হামলা চালাতো। এই ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় প্রাণ দিতে হয়েছে মা-বাবার একমাত্র ছেলে অনিককে। ২০১৫ সালের ২৭ মে উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় এই কিশোরকে। হত্যাকাণ্ডে ২০ থেকে ২৫ জন জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এক বছরে গ্যাং কালচারের বলি কমপক্ষে ১৫ কিশোর

শুধু মেহেদী আর অনিক নয়, গ্যাং কালচারের বলি হতে হয়েছে এখন পর্যন্ত অনেক কিশোরকেই। ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে স্কুলছাত্র আদনান কবিরকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে কয়েকজন কিশোর। এ মামলার তদন্তে বের হয়ে আসে কিশোর-তরুণদের ‘গ্যাংকালচার’-এর ভয়ঙ্কর কাহিনী।

১৫ জানুয়ারি প্রতিপক্ষের হামলায় রূপনগরে খুন হয় কামাল হোসেন নামে এক কিশোর। ১৮ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ায় খুন হয় কিশোর আবদুল আজিজ। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে ২৫ আগস্ট দারুসসালামের টোলারবাগে ছুরিকাঘাতে খুন হয় শাহিন (১৬)।

১৩ আগস্ট মোহাম্মদপুরের কাদেরিয়া তৈয়বিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র মোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের কিশোররা। ১ জুলাই আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় সজল (১৫) নামে এক টেইলার্স কর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে তার বন্ধুরা।

এর এক মাস পর অক্টোবরে খুন হয় তিন কিশোর। ৬ অক্টোবর কদমতলীর রায়েরবাগের মুজাহিদনগর এলাকায় খুন হয় রফিকুল ইসলাম, ৮ অক্টোবর রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডিতে খুন হয় ইরফান, ২৮ অক্টোবর ভোরে জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের হামলার একদিন পর মারা যায় হাসান আলী নামে এক স্কুলছাত্র।

চলতি বছরের শুরুতে চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইসফারকে নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জামালখানে দিন-দুপুরে খুন করা হয়। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি একই শহরে খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে খুন হয় মো. ইব্রাহিম নামে এক কিশোর। দক্ষিণখানে সক্রিয়

একাধিক কিশোর গ্রুপ

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় উঠতি বয়সী ছেলেদের অসংখ্য গ্রুপ তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে জিম-জিয়াদ গ্রুপ, শান্ত গ্রুপ, আরাফাত গ্রুপ, কামাল গ্রুপ ও আনছার গ্রুপ সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী বলে জানা গেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এই গ্যাংগুলো।

আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দক্ষিণখানের এসব গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতি-মারামারি হয়। সবশেষ গত ৩১ আগস্ট এমন একটি সংঘাতেই প্রাণ হারায় কিশোর মেহেদী। শান্ত ও আরাফাত গ্রুপের দ্বন্দ্বই ছিল ওই সংঘাতের মূল কারণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণখানের এসব গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী শান্ত ও আরাফাত গ্রুপ। শান্ত গ্রুপের প্রধান দক্ষিণখানের বিত্তশালী ব্যক্তি মিলন মিয়ার ছেলে শান্ত। আর আরাফাত গ্রুপের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় আরেক বিত্তশালী ফজলে হাজীর ছেলে তৌকির।

এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে মিলন ও ফজলে হাজীর মধ্যে। এ বিরোধ উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের সন্তানদের মধ্যেও এখন বিস্তৃত। দুই বাবার দুই সন্তান দক্ষিণখানে গড়ে তুলেছে বিশাল গ্যাং।

কৌশল পাল্টে ফের সক্রিয় উত্তরার কিশোর গ্যাং

২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি ডিসকো বয়েজ ও নাইন স্টার গ্রুপের কিশোর গ্যাংস্টারদের বিরোধে প্রাণ যায় উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবিরের। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দীর্ঘদিন গ্যাংগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ওই বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে ফেসবুকে ফের সক্রিয় হয়ে উঠে কিশোর গ্যাংস্টাররা।

আদনান হত্যার পর তদন্ত করতে গিয়ে উত্তরা ও তার আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩০টির মতো গ্যাংয়ের খোঁজ পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে সক্রিয় গ্রুপগুলো হচ্ছে- ‘কাঁকড়া’, ‘জি ইউনিট’, ‘ব্ল্যাক রোজ’, ‘রনো’, ‘কে নাইট’, ‘ফিফটিন’, ‘ডিসকো বয়েজ’, ‘নাইনস্টার’, ‘নাইন এমএম বয়েজ’, ‘পোটলা বাবু’, ‘সুজন’, ‘আলতাফ’, ‘ক্যাসল’ ও ‘ভাইবার গ্রুপ’।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব কিশোর আগে একে অপরকে শক্তি দেখাতো। এ জন্য তারা গ্যাং গ্রুপ তৈরি করে সদস্য বৃদ্ধি করতো। তারা প্রায়ই উচ্চ গতিতে মোটরসাইকেল চালাতো, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে সংঘর্ষে জড়াতো।

গ্যাং গ্রুপের কিশোররা হকিস্টিক, ক্রিকেট স্ট্যাম্প, ব্যাট ছাড়াও ধারালো ছোট ছোট ছুরি ব্যবহার করতো। এসব কর্মকাণ্ড ছেড়ে তারা এখন ভিন্ন নামে ও কৌশলে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়ে অপরাধ করে যাচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো উত্তরা এলাকায় ৪০টির মতো কিশোর গ্রুপ এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব কিশোর অপরাধীদের নজরদারি বা আটকেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে প্রত্যেক গ্রুপের টিম লিডারদের নাম, তাদের পরিবারের নাম এবং ঠিকানাও সংগ্রহের কাজ চলছে।
কিশোর অপরাধে দায়ী অভিভাবক ও রাজনৈতিক প্রভাব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে কিশোর অপরাধ। এখনই সময় এসব গ্রুপ বা গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার। নয়তো প্রতি মাসেই দু-একটা ঘটনা ঘটবে, প্রাণহানী হবে অথবা কেউ আহত হবে।

তিনি বলেন, আমি বলব, আমাদের অভিভাবক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একটা অংশ এর জন্য দায়ী। আজকাল অভিভাবকরা সন্তানদের খোঁজ-খবর রাখেন না, যে কারণে তারা যে বখে যাচ্ছে সেটা নজরে আসে না। তাই সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতারাও এর জন্য কম দায়ী নয়। আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের একটা অংশ নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য অল্পবয়সী ওই কিশোরদের শেল্টারের দায়িত্ব নেন। যে কারণে তারা অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠে।

গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জিয়া রহমান বলেন, এসব গ্রুপের তালিকা করুন, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করুন। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পরিবার ও সমাজের মধ্য থেকে তাদের মধ্যে একটি পজিটিভ আবহ তৈরি করতে হবে। না হলে এসব অপরাধমূলক কাজের পরিধি বাড়বে।

তালিকা ধরে অভিযান চলবে কিশোর গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে

কিশোর অপরাধ ঠেকাতে টিনেজ গ্রুপ ও গ্যাংগুলোর তালিকা করেছে পুলিশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দক্ষিণের একজন সহকারী কমিশনার (এসি) বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গ্যাংয়ের নাম পত্র-পত্রিকায় এসেছে।

সেসব নামের তালিকা আমরা সংগ্রহ করেছি। এখন সেই তালিকা ধরে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেও দক্ষিণখানে মেহেদী হত্যার ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাদের আটকের পর শুধু দক্ষিণখান নয়, উত্তরার গ্যাং গ্রুপ সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি উত্তরের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন গ্রুপের সন্ধান পেয়েছি। তারা এখন আগের মতো নয়, কৌশল বদলে অপরাধ করছে। কিন্তু তাদের নজরদারিতে আনার কাজ চলছে। শুধু তাই নয়, তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য গ্রেফতারও চলছে।

অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানের বিপথে যাওয়ার জন্য অভিভাবকরাও অনেকাংশেই দায়ী। সন্তানরা কী করছেন, কোথায় যাচ্ছেন আর কাদের সাথে চলাফেরা করছেন, তা নজরদারি করা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু অনেক অভিভাবক তা করছেন না। যে কারণে কিশোররা অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ছে। সুত্র: পরিবর্তন ডটকম