ভয়াল রূপে কেরালার বন্যা পরিস্থিতি, নিহত ৩ শতাধিক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৪:০৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮

টিবিটি সারাবিশ্বঃভারতের কেরালা রাজ্যের বন্যা ভয়াল রূপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে মৃতের সংখ্যা তিন শতাধিক ছাড়িয়েছে গেছে। রাজ্যের যেদিকেই চোখ যাচ্ছে শুধু পানি আর পানি। তার মধ্যে থেকেই কোথাও মাথা উঁচু করে রয়েছে কিছু বাড়ি আর গাছপালা।

গত এক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টিতে রাজ্যের বেশির ভাগ অংশই প্রায় জলের তলায় চলে গিয়েছে। বন্যার সঙ্গে যুঝতে না পেরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৩২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিন এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও সঙ্কটময় হয়ে উঠবে। কেরালার এই বন্যা ১৯২৪-এর ভয়াল স্মৃতিকে উস্কে দিয়েছে রাজ্যবাসীর মনে। সে বছর রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছিল। টানা তিন সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি চলে। মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩,৩৬৮ মিলিমিটার। সরকারি তথ্য না মিললেও বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, সে বছর প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

কেরালার বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার সে রাজ্যে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওবিদরা। রাজ্যের ১৪টি জেলার মধ্যে ১৩টিতেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইদুকি জেলার।

তবে পরিস্থিতি আগের থেকে কিছুটা উন্নত হয়েছে আলাপুঝা, এর্নাকুলাম, ত্রিশূর এবং পথনমথিত্তায়। জল কিছুটা নেমেছে এ সব জায়গায়। ত্রিশূর ও চালাকুড়ি শহরের বেশির ভাগটাই জলের তলায় চলে গিয়েছে। যে সব জায়গায় ত্রাণ শিবির তৈরি করা হয়েছে, নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় সেখানেও জল ঢুকতে শুরু করেছে।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও প্রায় এক লক্ষ মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখান থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তিরুঅনন্তপুরম-কোট্টায়ম-এর্নাকুলাম এবং এর্নাকুলাম-শোরানুর-পালাক্কড় রেলওয়ে সেকশনের বেশির ভাগ জায়গায় ট্র্যাক জলের তলায় চলে গিয়েছে।

কোথাও আবার জলের তোড়ে পুরো রেলট্র্যাকই উধাও! ওই দুই সেকশনে শনিবার বিকেল ৪টে পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি এবং ত্রাণ নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ করছে তা নিয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।