মজুরি বাড়াবো, ট্যাক্স কমান

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ | আপডেট: ৪:১৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮

কমপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন কারণে ব্যবসা ব্যয় বেড়েছে; কিন্তু আয় বাড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে হলে ট্যাক্স কমানোর দাবি করেছেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

রোববার বিজিএমইএ ভবনে তৈরি পোশাক খাতের নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে জরুরি সাধারণ সভায় এ দাবি করেন তিনি।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য টিপু মুন্সি, আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এস এম মান্নান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির, বিকেএমইএ দ্বিতীয় সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান প্রমুখ।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, মজুরি নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। শ্রমিকপ্রীতি দেখিয়ে তারা প্রলুব্ধ করে উস্কে দিচ্ছেন। যারা মালিকদের চেয়ে শ্রমিকদের বেশি প্রীতি দেখান তারা এ খাত নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। তারা এ খাতকে ধ্বংস করতে নানা ইস্যু নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আমরা মজুরি বাড়াতে চাই। মজুরি বাড়ালে খরচ বাড়বে এটি অন্যদিক থেকে আসতে হবে। অর্থাৎ মজুরি বাড়ালে ট্যাক্স কমাতে হবে। সোর্স ট্যাক্স থেকে মুক্তি দিতে হবে। ব্যবসায়ী শফিউল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর পরপর মজুরি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর একটি সুস্থ সমাধান প্রয়োজন। এজন্য মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য টিপু মুন্সি বলেন, নির্বাচনের সময় মজুরি বাড়ানো একটি বাড়তি চাপ। এ সময় কিছু শ্রমিক নেতা নানা ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেন। তারা বিদেশি টাকায় কাজ করেন। দেশে কিছু অ্যাকশন দেখাতে পারলে বিদেশ থেকে বেশি টাকা পান। এমন কিছু লোক সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছেন।

বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়রানি করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তারা অডিটের নামে ফাইল আটকে রাখেন। পরে লবিং করে ফাইল ছাড়াতে হয়। এভাবে কতদিন লবিং করে ব্যবসা করবো।

এই নীতি পরিবর্তনের দাবি করে তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের মাল খালাসসহ ট্যাক্স ও অন্যান্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ৮০ শতাংশ সময় চলে যায়। এসব ঠিক করতে অনেক সময় লাগে। এরপর ২০ শতাংশ সময় ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পারি। আমাদের এ জটিলতা কমানো আহ্বান জানাই সরকারের প্রতি।

নতুন মজুরি কাঠামো সম্পর্কে তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডে মালিকদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ৩৬০ টাকা ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১২ হাজার ৩২০ টাকা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো দরকার আমরা মালিকরাও মজুরি বাড়াতে ইচ্ছুক। তাই শ্রমিকদের প্রয়োজনীয়তা ও মালিকদের সক্ষমতার উপর নির্ভর করে এ মজুরি কাঠামো নির্ণয় করতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়া হচ্ছে। আমার ওপর আস্থা রাখুন আশা করি মজুরি বোর্ড বিষয়টা বুঝবে।

তিনি বলেন, অনেকে মজুরি নিয়ে নানা কথা বলছে এটি ঠিক নয়। যাদের পোশাক খাতের অভিজ্ঞতা নেই সেসব লোকের এ খাত নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। এছাড়া মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আসা করছি এখানে সমাধান হবে। আর যদি বোর্ডে সমাধান না হয় তাহলে শ্রম মন্ত্রণালয় আছে তারা সমাধান করবে। তাতেও যদি সমাধান না হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমস্যা সমাধান করবে।

সভায় পোশাক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংকগুলো নয়-ছয় এর খেলা খেলছে। এখনো ঋণের সুদহার অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঋণের সুদ কমানোর ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর করেনি কোনো ব্যাংক। আবার কিছু ব্যাংক নয় শতাংশে ঋণের কথা বললেও যে শর্ত দিচ্ছে তা মেনে কেউ ঋণ নিতে পারবে না। তাই এ বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পোশাক কারখানার ব্যয় পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, বর্তমানে যে মজুরি রয়েছে তা দিতেই মালিকরা হিমশিম খাচ্ছে। এ সময় মজুরি বাড়ালে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় বহন করতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই মালিকদের পক্ষ থেকে যে মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে এর চেয়ে বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়।