মঠবাড়িয়া উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয় না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৬:২৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

মজিবর রহমান, পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা আ’লীগের গত এক বছর ধরে দলীয় কার্যালয় নেই। ক্ষমতাসীন দলের দলীয় কার্যালয় না থাকায় এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আ’লীগের কার্যালয় না থাকায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।ইতোমধ্যে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয়সূএে জানাগেছে, মঠবাড়িয়ার সাবেক সাংসদ ও জেলা আ’লীগ এর সহ- সভাপতি ডাঃ আনোয়ার হোসেনের কাপড়িয়া পট্টি সড়কের পাশে তার মালিকানাধীন ঘরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা আ’লীগের সাথে লিখিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ওই চুক্তিনামা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে সেখানে উপজেলা আ’লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়ে মনকষ্টে তিনি আমেরিকা চলে যান। এরপর দেশে এসে বহুতল ভবন নির্মাণের অজুহাত দেখিয়ে আ’লীগ কার্যালয়ের মধ্যে কয়েক হাজার ইট রেখে তালা দেন।

তখন সাবেক সাংসদের উপজেলা আ’লীগের কার্যালয় তালা দেয়া নিয়ে দলীয় নেতা- কর্মী সহ জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়। এরপর থেকে উপজেলা আ’লীগ সভাপতি রফিউদ্দিন আহম্নেদ ফেরদৌস এর বাসভবন কলি নিলয় অঘোষিত ও অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করলেও আভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে অধিকাংশ নেতারা দলের কোন সভায় যোগদান করছেন না।

এমনকি জাতির জনকের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী দলের একাংশ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে পালন করেন। গুলিসাখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম (এবি) জানান, দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অথচ এখানে দীর্ঘদিন ধরে দলের কোন অফিস নেই। আ’লীগ বিরোধী দলে থাকাকালীন দল সুসংগঠিত ছিলো।

দলের সভাপতির বাসায় তার মাই ম্যান নিয়ে চলে বৈঠক। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা আ’লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান জানান, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস একজন পেশাদার ঠিকাদার।

তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করে ব্যবসা, – বানিজ্য দেখাশুনা করেন।সংগঠনকে গতিশীল ও তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার তার কোন প্রচেষ্টা নেই। দলীয় অফিস না নিয়ে বাসায় দলের সাইনবোর্ড সাটিয়ে যেমন খুশি তেমন সাজোর মতন দল চালাচ্ছেন।

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের অফিস নেই এটা মঠবাড়িয়া উপজেলায় এই প্রথম দেখলাম। সাবেক সাংসদ ও জেলা আ’লীগ সভাপতি এ কে এম আউয়াল এর মাধ্যমে ৯৭ সালে উপজেলা আ’লীগের এর সহ-সভাপতির পদ নেয়। মূলত তার কারনেই দলের মধ্যে আভ্যন্তরীন কোন্দল।

এ ছাড়া দুটি হত্যা মামলার আসামী হলেও তার বিরুদ্ধে কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পিরোজপুর জেলা আ’লীগ এর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদার জানান, উপজেলা আ’লীগের এর অফিস না থাকাটা খুবই দুঃখজনক। সংঠনকে শক্তিশালী করতে দলীয় কার্যালয় নেয়া অত্যন্ত জরুরি। মঠবাড়িয়ার রাজনৈতিক কোন্দলের বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটি অবগত আছেন।