মদনে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে পুরাতন রাস্তা মেরামত বরাদ্দকৃত টাকা আত্ম সাতের পায়ঁতারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২১ | আপডেট: ৯:৩০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২১

পরিতোষ দাস, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার মদনে মঙ্গলবার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে পুরাতন রাস্তা মেরামত করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের পায়ঁতারা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাস্তা সংস্কার করায় সোমবার ভেকরু চাবি নিয়ে কাজ বন্ধ দিয়েছে এলাকাবাসী। এ প্রকল্পের ২২লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জালিয়ার হাওরে বর্ণি নদীর পাশ ঘেষে নির্ধারিত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করে প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন করে তালুককানাই, পাচঁআলমশ্রী গ্রামের পুরাতন রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করে। উক্ত প্রকল্প বাতিল করে প্রকল্পের নির্ধারিত বাধেঁ মাটি কাটার দাবিতে আলমশ্রী গ্রামবাসী পাকা সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় বক্তারা বলেন, শতশত কৃষকের ফসল রক্ষার চিন্তা না করে নিজেদের স্বার্থে মনগড়া প্রকল্পে তৈরি করে কাবিটা প্রকল্পের রাস্তায় মাটি কাটা শুরু করে । এতে সাধারণ কৃষকের কোন কাজে আসবেনা। মূলত প্রকল্পের টাকা লুটপাট করাই তাদের উদ্দেশ্য। আমরা বর্ণি নদীর পাড়ে ফসল বাধঁ নির্মাণে জোর দাবি জানাচ্ছি। এ সময় বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি সদস্য বেবুল ভূইয়া, তৌফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, বজলুর রহমান, আব্দুর রশিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান তালুকদার হিরা, আল্লাদ ভূঁইয়া, মহর উদ্দিন প্রমূখ।

এ ব্যাপারে প্রকল্পের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাহেব এর নিকট থেকে জেনে নেন। চেয়ারম্যান সাহেব বলতে পারবে।

নায়েকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রুমান জানান, প্রকল্প এলাকায় মাটি কাটতে গেলে কেন্দুয়ার অংশের লোকজন বাধা দেয়। তাই নায়েকপুর ইউনিয়নের জালিয়ার হাওরের আরেকটি অংশে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে এলাকার কিছু লোকজন ভেকুর চাবি নিয়ে যাওয়ায় মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে। আমি এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। উক্ত রাস্তায় কাবিটা প্রকল্পের কাজ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নেত্রকোনার দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারি প্রকৌশলী মিজানূর রহমান জানান, জালিয়ার হাওর (নায়েকপুর অংশ) ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বর্ণি নদী ঘেষে প্রথমে কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এলাকার লোকজন বাধার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরার্মশ ক্রমে সেখানে কাজ শুরু করেছি। এলাকাবাসী যদি মানববন্ধন করে তাহলে লোকজন পাঠিয়ে দেখছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ জানান, ফসল রক্ষা বাঁধ এলাকাটি কেন্দুয়া উপজেলার মৌজায় হওয়ায় সেখানকার কৃষকগণ মাটি কাটতে বাধা দেয়। পরে নায়েকপুরের কৃষকদের সাথে আলোচনা করেই স্থান পরিবর্তন করে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে কৃষকদের উপকারে না আসলে মাটি কাটা বন্ধ করে দেব। শুনেছি, এলাকার লোকজন ভেকুর চাবি নিয়ে গেছে। ওসি সাহেবকে মঙ্গলবার বিকালে প্রকল্প এলাকায় যাব এবং কৃষকদের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করব। তাদের সুবিধার্থে কাজ হবে। কাজ না হলে টাকা ফেরত যাবে।