মন্ত্রীরা জানেন না নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা কী হবে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৩২:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮
ফাইল ছবি

জাতীয় নির্বাচনের তোড়জোড় এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আর মাত্র এক মাস পরই গঠন হতে যাচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার। অক্টোবরে ছোট আকারে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

এর আকার হবে ছোট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে ওই ছোট সরকারের দায়িত্ব। অনেকের মাঝে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে কে কে থাকছেন নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ভালো পারফরম্যান্স নিয়ে যেসব মন্ত্রী এগিয়ে আছেন তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের বিগত কাজের আলোকে বিভিন্ন দিক বিচার-বিশ্লেষণ করছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

দায়িত্বশীল সূত্রটি আরো জানায়, হ্যাভিওয়েট মন্ত্রীদের অনেকেই থাকছেন না নির্বাচনকালীন নতুন সরকারে। টেকনোক্র্যাট কোটায় ১৪ দল থেকে কিছু নতুন মুখ দেখা যাবে। তবে বিএনপির কেউ নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছে না।

এদিকে, সিনিয়র কিছু মন্ত্রী মনে করছেন সরকারের শেষ সময়ে দায়িত্বভার সঠিকভাবে পালন করতে হবে। এতে করে সামনে সরকারের নতুন মেয়াদে তার অবস্থানটি আরও মজুবত হবে বলেও আশা করছেন তারা।

বেশকিছু মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর শেষ হওয়া কিংবা আগামী বছর শেষ হওয়া প্রকল্পের কাজগুলোর বিশেষ তদারকি করছেন মন্ত্রীরা। সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন তারা।

মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ছোট সরকার গঠন হওয়ার পর শুধু দৈনন্দিন কাজ করা যাবে। নীতি নির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না সেই সরকার। এ জন্য নির্বাচনী সরকার গঠনের আগেই নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কি হবে না হবে, কে থাকবে কে থাকবে না তা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। ইনফ্যাক্ট মন্ত্রিসভাটা একজন প্রধানের ওপর ডিপেন্ড করে। যেখানে পুরো মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল সুতরাং এখানে অন্য কারো মন্তব্য করার স্কোপ নেই।

নতুন সরকারে যদি আপনাকে দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে কীভাবে কাজ করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফা জব্বার বলেন, এটা কখনো কল্পনা করা যায় না। তবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১৯৭০ সাল থেকে আমার সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী যখন যেভাবে আমাকে কাজ করতে বলেছেন ঠিক তখন সেভাবেই সে কাজগুলো করেছি।

এদিকে, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আগামী অক্টোবরে ছোট আকারের একটি সরকার গঠন করা হবে। ওই সরকারের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় নির্বাচনকালীন সরকার কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করতে পারবে না। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে এর আগেই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর অনুমোদন সংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু প্রকল্প নিলেই হবে না, বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রকল্প নিতে হবে। এ বিষয়ে সচিবদের ধারণা দেয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে চলমান উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। নির্বাচন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ জন্য উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই বছরের ২৯ জানুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বসেছিলেন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিন অর্থাৎ এ বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।’

ভোটগ্রহণের পর ঘোষিত ফলের গেজেট প্রকাশসহ কিছু কাজ থাকে। এছাড়া কিছু কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হলে সেগুলোও মেয়াদের মধ্যেই শেষ করতে হয়। এ জন্য নির্ধারিত ৯০ দিন শেষ হওয়ার আগেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে ডিসেম্বরের শেষদিকের যে কোনো দিন ভোটের সম্ভাবনাই বেশি।

সংবিধানে অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকলেও এ বিষয়ে কিছু ইঙ্গিত রয়েছে। ৫৬(৪) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া এবং সংসদ সদস্যদের অব্যবহিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তীকালে কাউকে মন্ত্রী নিয়োগ করার প্রয়োজন দেখা দিলে সংসদ ভেঙে যাওয়ার অব্যবহিত আগে যারা সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা বহাল থাকবেন।

ফলে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন সামনে রেখে যদি সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় অথবা সংসদ বহাল রেখেই একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়, তারপরও সংসদ সদস্যরা তাদের পদে বহাল থাকবেন। আর ওই অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার সদস্য নিতে হবে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই।