মমতার নেতার ‘কানের মাংস কামড়ে তুলে নিল’ বিজেপির কর্মী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০২১ | আপডেট: ১০:২০:পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০২১

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত বেসরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০। হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী এখন ঘরছাড়া।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মমতার রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন শুরু করেছে। তৃণমূল বিষয়টিকে বিজেপির সাজানো নাটক বলে দাবি করেছে।

এবার তৃণমূল নেতার কান কামড়ে মাংস খুবলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরের মন্দিরতলা বাজারের। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী‌র বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোরও অভিযোগ উঠেছে। নাগাল না পেয়ে কামড়ে তার কানের মাংস তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্দিরতলা বাজারের বিজেপির পার্টি অফিসের পাশের একটি চায়ের দোকানে চা খেতে গিয়েছিলেন মনোরঞ্জন দাস নামে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা।

সেই সময় ওই চায়ের দোকানে খালেক শা নামের এক বিজেপি কর্মীও বসেছিল। ওই বিজেপি কর্মীর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন মনোরঞ্জন। এরপরেই ওই বিজেপি কর্মীর সেখান থেকে উঠে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাশের পার্টি অফিসের ভেতর থেকে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসে।

অভিযোগ উঠে, ওই ধারালো অস্ত্র দিয়ে মনোরঞ্জনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান খালেক। ঘটনার সময় মনোরঞ্জনর পাশে গোপাল দাস নামের আরও একজন তৃণমূল কর্মী বসে ছিলেন। খালেককে নিরস্ত্র করতে তিনি ওই আততায়ীর কাছ থেকেই অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর মনোরঞ্জনকে ছেড়ে ওই ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে খালেক। তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে অভিযুক্ত ওই বিজেপি কর্মী বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনিও।

ঘটনার খবর জানাজানি হতেই সেখানে উপস্থিত হন তৃণমূল কর্মীরা। তারাই এই ব্যক্তির কাছ থেকে ধারালো অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়। এখানেই শান্ত হননি ক্ষিপ্ত খালেক। অভিযোগ ওঠে, হাত ছাড়িয়ে মনোরঞ্জনের ওপর আবার আক্রমণ করেন তিনি। এবারে সটান তার কান কামড়ে মাংস তুলে নেন ওই ব্যক্তি। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মনোরঞ্জন। তাকে উদ্ধার করতে এসে ওই ব্যক্তির হাতে জখম হন আরও কয়েকজন তৃণমূল কর্মী।

এই ঘটনার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূল নেতৃত্ব। এ ঘটনা ঘিরে গোটা এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপির নেতৃত্ব। স্থানীয় এক বিজেপি নেতা এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌ এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি কোনওভাবেই জড়িত নয়।’‌

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস