মমেক পরিচালকের ফেসবুক হ্যাক ও নাম্বার ক্লোন করে প্রতারণা!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: 7:53 PM, October 18, 2019 | আপডেট: 8:07:PM, October 18, 2019

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নাসির উদ্দিন আহমেদের ফেসবুক আইডি হ্যাক এবং মোবাইল ফোনের নাম্বার ক্লোন করে বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিচিতদের কাছে টাকা চেয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুক মেসেঞ্জার ও মোবাইলে টাকা চাওয়ার এ ঘটনাকে কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তার নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যেন অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে এ ব্যাপারে পরিচিত ও ঘনিষ্ঠজনদের সতর্ক করেছেন তিনি।

গতকাল (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টা ২৪ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া সতর্কতামূলক দুইটি স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা জানান।

সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে দেওয়া প্রথম স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী আমার আইডি ও ছবি দিয়ে একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন মানুষের কাছে বিকাশে টাকা চাচ্ছে। বিকাশ নাম্বার টি আমার নয়। আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক বা অন্য কোন প্রক্রিয়ার এ জঘন্য কাজটি করছে। আপনারা সাবধানে থাকবেন। আমার মেসেঞ্জার নেই। আনইন্সটল করা। কাউকে কোন টাকা দিবেন না।”

এ ঘটনাকে কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে রাত ১১টা ২৪ মিনিটে দেওয়া দ্বিতীয় স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, “প্রিয় ময়মনসিংহ বিভাগবাসী, আপনাদেরকে আমার পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা। আপনারা অবগত আছেন যে, আমি দীর্ঘ চার বছর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এ দীর্ঘ চার বছরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি এবং অনেক যন্ত্রপাতি সংযোজিত হয়েছে। যার তথ্য আমি কিছুদিনের মধ্যেই আপনাদেরকে জানিয়ে দিব।

একটি মহল শুরু থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করছে যাতে আমি মানসিক নিপিড়ণের শিকার হয়ে আমার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করতে পারি। এই গোষ্ঠী শিক্ষিত। সাধারণ মানুষদের দোয়ার কল্যাণে এবং সর্বোপরি আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে হাসপাতালের উন্নতির জন্য চেষ্টা করেছি। বাস্তব সাহায্য আমি খুব কম পেয়েছি।

এখন কিছু কিছু মহল আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে এবং অন্যান্য উপায় অবলম্বন করে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র করছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কখন কোন ব্যক্তির কাছে আর্থিক সাহায্য বিকাশের মাধ্যমে অথবা ব্যাংক চেকের মাধ্যমে অথবা ব্যক্তিগত লোন এর মাধ্যমে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

এটা আমার জীবনে কখনো আমি করিনি। সুতরাং আপনারা সচেতন যারা আছেন তারা মানুষকে বলবেন আমার নামে বা নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি কোন সুবিধা চায় সেটা টাকা হোক অথবা অন্য কিছু হোক সেটা সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ এবং ষড়যন্ত্রমূলক কাজ। আপনারা এই বিষয়টি সবসময় বিবেচনায় রাখবেন কোন পক্ষই যেন আমার নাম ব্যবহার করে কোন অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে। আপনাদের সহযোগিতা একান্ত ভাবে কাম্য।”

উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকে তাঁর আন্তরিক চেষ্টায় বদলে গেছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র। রোগীদের নানা অভিযোগ, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার ব্যস্ততা আর রোগীদের অপ্রসন্ন মুখ -এই যখন অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র, সেখানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। চমৎকার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সার্বক্ষণিক ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি, রোগীদের উন্নতমানের ডায়েট, ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালমুক্ত পরিবেশ আর প্রায় একশত ভাগ ওষুধ সরবরাহ -এসব বৈশিষ্ট্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন দেশের প্রতিটি হাসপাতালের নিকট আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে।