মহাদেবপুরে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের গম চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | আপডেট: ৭:৫৮:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১

এম.সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা: বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত নওগাঁর অন্যতম খাদ্য ভান্ডার মহাদেবপুর উপজেলায় কৃষি ব্যবস্থায় ঘটছে পরিবর্তন। উন্নত জাত এবং অর্থকরী স্বল্প সময়ের ফসলের প্রতি দিন দিন ঝুঁকছে কৃষকরা।

বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে অল্প সেচের ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বোদ্ধকরণে উপজেলা কৃষি বিভাগ উন্নত জাতের গম বীজ বিনা মূল্যে কিছু সংক্ষক কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেন। এ বছর রেকর্ড পরিমান জমিতে দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য ফসল উন্নত জাতের গম চাষ করছেন উপজেলার কৃষিকগণ।

গত কয়েক বছর যাবত বাম্পার ফলন ও অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় সচেতন কৃষকরা “বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট” উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের গম চাষে ঝুকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এ বছরও প্রতিটি গম চাষী অধিক মুনাফা লাভ করবে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

এটি মূলত শীত প্রধান দেশের খাদ্য ফসল, আমাদের দেশে গম আবাদের ইতিহাস খুব বেশী দিন আগের নয়। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ গম গবেষণা কেন্দ্র দেশে গম আবাদে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও কৃষকদের অবদান এক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কৃষিবিদগণ। কম সেচে অধিক ফসল উৎপাদনসহ রোগ-বালাইয়ের আক্রমন কম হওয়ায় গম চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। পাশাপাশি ধানের সাথে তুলনামূলকভাবে গমের দামও ভাল। ফলে কৃষক কম খরচে অধিক আয়ের লক্ষে গম আবাদে ঝুঁকছেন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

এমনকি বোরো ধানের চেয়ে গম চাষে রাসয়নিক সারের ব্যবহারও কম। ফলে কৃষকের বিনিয়োগ কম, আয় বেশী। বারি-২৫, ২৬, ২৮, ২৯, প্রদীপ, বিজয় ও শতাব্দী এসব জাতের গমে পোকার আক্রমণ কম হয়। ফলে ফলন ভালো হয়। আর তুলনামূলকভাবে অন্য জাতের গমের চেয়ে এসব জাতের চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। ফলে কৃষকরা এসব জাতের গম চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার ৬শত ৮০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৭ শত ৬০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ২শ’ ১০ হেক্টর জমিতে বারি-২৫, ১শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে বারি-২৬ ও ১শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে বারি-২৮ জাতের গম চাষ এবং বাঁকী জমিতে অন্যান্য জাতের গম চাষ করা হয়েছে। উপজেলার শিবপুর গ্রামের কৃষক ছয়েফ উদ্দীন মন্ডল বাবু জানান, গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় এবার ৫ বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছি। কৃষি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। আশা করছি বিঘা প্রতি ১৪-১৫ মণ ফলন হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় জানান, কৃষকরা যেন গম চাষে কোন প্রকার সমস্যায় না পরেন এ জন্য আমরা সর্বাক্ষণিক নজর রাখছি। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করেন।