মহাদেবপুর উপজেলার মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীস

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৪:০৪:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

এম. সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীস। সোনা মাখা ধানের শীসের সমারোহ বলে দিচ্ছে নবান্ন আসছে। এখন আমন মৌসুমের শেষ মুহুর্ত।

এই সময়ে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে মাঠের পর মাঠে সোনালী ধানের শীষে শিশির বিন্দুর সমারোহ। এই সময়ে বিভিন্ন মাঠে আমন ধানের শক্ত গাছের গোড়া খেয়ে ফেলত পচা ও কারেন্ট পোকা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, প্রতিবছর এগুলো দমনে কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত হয়ে পড়ত কৃষকরা। চলতি আমন ধান চাষ মৌসুমে পচা ও কারেন্ট পোকা দমনে গত বছরের তুলনায় কীটনাশক প্রয়োগ কমেছে কৃষকদের।

এই উপজেলার সুজাইল গ্রামের আব্দুল লতিফ ও আব্দুর রহিম, গোষাইপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ ও নুরুল ইসলাম, হাসানপুর গ্রামের হেফজুলসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা এবার আমন মৌসুমের শুরুথেকেই বুক ভরা আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করছেন। গত আমন মৌসুমে ধানের দাম ভালো না পেলেও এ বছর বাম্পার ফলন ও ভালো দামের আশা ব্যাক্ত করছেন তাঁরা। মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার অরুন চন্দ্র রায় জানান, এ বছর চলতি আমন মৌসুমে মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সর্বমোট ২৮ হাজার ৩ শত ৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছে কৃষকরা।

তবে এর মধ্যে উপশী জাতের স্বর্না-৫ ধান- ১২ হাজার ৬৪০ হেক্টর , লম্বাস্বর্না- ১২২০ হেক্টর , ব্রি-৪৯ ধান- ১৫৯০ হেক্টর , ব্রি-৫১ ধান- ১৫০০ হেক্টর , ব্রি-৫২ ধান- ৫০০ হেক্টর , ব্রি-৩৪ ধান-৪৬০ হেক্টর , ব্রি-৭২ ধান- ৩০ হেক্টর ও বিনা-৭ ধান-১০০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।

এ উপজেলায় মোট- ১৮ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে উপশী জাত ও বাকি ১০ হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে দেশীয় চিনি আতব জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষক সুত্রে আরো জানাগেছে, অন্যান্য বছর বৃষ্টির পানির সংকট না থাকলেও চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির অভাব দেখা দেয়।

উপজেলার কৃষকরা প্রায় বিঘা প্রতি গভীর নলকুপ ও সেলো মেশিন দিয়ে সেচ দেওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বেরেছে। মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল, গোষাইপুর, হাসানপুর, চকরাজা, দাশড়া, সরস্বতীপুর, শ্যামপুর, খোর্দ্দনারায়নপুর, বাগধানা, নলবলো, ধনজইল ও চৌমাশিয়া সহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় মাঠের পর মাঠ সোনালী ধানের শীসের সমারোহ যেন দোল খাচ্ছে। আমন মৌসুমের শেষমুহূর্তে অন্যান্য পোকার উপদ্যোপ কমলেও কিছু জমিতে পচা ও কারেন্ট পোকা বিষ প্রয়োগ করতে কৃষকদের দেখা গেছে।

আগামীতে আশানুরূপ ধানের দাম পাবেন এ আশাও ব্যাক্ত করেছেন তারা। অপরদিকে আমন ধান লাগানো থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে এবং বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না দেখা দিলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা ব্যাক্ত করছেন উপজেলার কৃষকগণ ও উপজেলা কৃষি অফিসার অরুন চন্দ্র রায়।