মাউশি’তে প্রায় ৪০০০ যুবক একটি চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন ৭ বছর

চতুর্থ শ্রেণীর পদে নিয়োগ নিয়ে মামলা হওয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হচ্ছে না

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:০৬:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৯

মোঃ সুমন মিয়া: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এর চতুর্থ শ্রেণির একটি চাকরির আশায় সাত বছর আগে আবেদন করেছিলেন বেকার যুবক রনি আহমেদ (২৯)। দুইবার লিখিত পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলে দেন মৌখিক পরীক্ষা। সেটাও প্রায় দেড় বছর আগে। এই দীর্ঘ সময় আশা নিয়ে বসে আছেন তাঁর একটা চাকরি হবে। কিন্তু আজও চাকরি হয়নি, এমনকি মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলও জানতে পারেননি।

কুড়িগ্রাম জেলার দরিদ্র পরিবারের সন্তান রনি আহমেদের মতো প্রায় চার হাজার যুবক একটি চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ নিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাকি পদগুলোতে নিয়োগ সম্পন্ন হলেও চতুর্থ শ্রেণির ৯৫৮টি পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ নিয়ে মামলা হওয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।

রনি আহমেদ রহমান জানান, অনেক কষ্টে পড়ালেখা করে চাকরি না পেয়ে কষ্টে দিন যাচ্ছিল তাঁর। ২০১৩ সালের ৭ মার্চ পত্রিকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ে। মোট ২২টি পদে ১ হাজার ৯৬৫ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। প্রায় চার লাখ চাকরি প্রত্যাশী এতে আবেদন করেন। চতুর্থ শ্রেণির অফিস সহায়ক পদে তিনি আবেদন করেন। এরপর ওই সালের ২১ জুন তাঁর লিখিত পরীক্ষা হয়, কিন্তু সেই পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তা বাতিল হয়। আবার লিখিত পরীক্ষা দেন ২০১৭ সালের ৭ জুলাই। সেই পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। সেই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন।

চতুর্থ শ্রেণির বুক সর্টার ও এমএলএসএস পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা দেন ৩ হাজার ৮৭৮ জন। এর মধ্যে ৯৫৮ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা।
অপর একজন মোঃ আজিজ (৩৩) বর্তমানে থাকেন চাদঁপুরে। তিনি বলেন, সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করেছেন। চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখে এমএলএসএস পদের জন্য আবেদন করেন। পরীক্ষা দিয়ে চাকরির অপেক্ষা করতে করতে বয়স শেষ করে ফেলেছেন। তিনি জানান, স্ত্রী, এক মেয়ে, মা-বাবা, ভাইসহ আট সদস্যের পরিবার, যাঁরা সবাই বর্তমানে তাঁর ওপর নির্ভরশীল। একটা কোম্পানিতে সামান্য বেতনে চাকরি করে বেঁচে আছেন। এই চাকরি না পেলে আর কখনো সরকারি চাকরি পাবেন না।

ঢাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, এই চাকরির অপেক্ষায় থেকে অনেকে সরকারি চাকরির বয়স শেষ করে ফেলেছেন। আবার অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছেন। তিনি বলেন, সব পদে নিয়োগ দেওয়া হলো, শুধু চতুর্থ শ্রেণির পদে দেওয়া হলো না। তিনি আরও বলেন ফলাফল প্রকাশের দাবীতে কয়েকবার মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও অনশন পালন করা হয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, মহাপরিচালক মাউশি, পরিচালক ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মাউশিকে একাধিক বার ফলাফল প্রকাশের জন্য স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। গরিব অসহায় বেকার ছেলেগুলোর কথা চিন্তা করে সব জটিলতা নিরসন করে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করার দাবি জানান আক্তার হোসেন।

শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক মুঠোফোনে জানান, চতুর্থ শ্রেণির এই দুটি পদে আদালতে একাধিক মামলা করা হয়েছে। আগে মাস্টাররোলে কর্মরত ব্যক্তিরা এই মামলাগুলো করেছেন। যে কারণে তাঁরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এসেও নিয়োগ দিতে পারছেন না। যে পদগুলোতে মামলা ছিল না, সেগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, তারাতারি এর একটা সমাধান করতে পারবেন।