মাকে মাথায় নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিল যুবক!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩৯:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

পৃথিবীতে মায়ের প্রতি ভালবাসার অনেক নজিরই আছে। মাকে নিয়ে ভালাবাসার অনেক কাহিনী পৃথিবীর নানান পরতে পরতে। বান্দরবানের যৌথ খামার এলাকায় তেমনই এক উদাহারণ সৃষ্টি করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির যুবক।

অসুস্থ মাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে একটি থুরুংয়ে (ঝুড়িতে) ভরে কাঁদে নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন। মায়ের প্রতি এমন ভালবাসার নজির স্থাপনকারী যুবকটি তার পরিচয়ও জানতে চাননি।

তার এমন মাতৃপ্রেম দেখে সবাই মুগ্ধ হয়েছেন। সবাই বেশ প্রশংসা করেছে যুবকটির। এর সাথে তার মায়ের সুস্থতা কামনা করেছে।

মায়ের জন্য এমন ত্যাগের নজির বিভিন্ন ধর্মীয় কাহিনীতে আমরা শুনেছি। পূন্যের আশায় মাকে মাথায় নিয়ে বা গলায় ঝুলিয়ে অনেক সন্তান দীর্ঘপথ ঘুরে বেড়িয়েছেন। ইসলাম ধর্মের হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (র.) তৃষ্ণার্ত মায়ের পাশে সারারাত পানি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হযরত ওয়ায়েজ কুরনি মাকে পিঠে বহন করেছেন দীর্ঘ দিন।

এর আগেও বাংলাদেশে এমন বিরল কিছু ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে অন্যতম, ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারের মাকে বয়ে নেয়ার ঘটনাটি।

চিকিৎসার জন্য বৃদ্ধা মাকে মাথায় নিয়ে ১০ মাইল হেঁটে আসার বিরল এক ছবি প্রাকাশ হয় সে সময়। তারপর পরেই শুরু হয়ে ব্যাপক আলোচনা। এ কাজটি এই সন্তান শুধু একদিনই করেননি, প্রায়শই করতেন।

ফকির আলমগীরের গাওয়া গানটি বেশি মনে পরবে আপনার নিশ্চয়ই। ‘মায়ের একধার দুধের দাম, কাটিয়া গায়ের চাম, পাপোশ বানাইলেও ঋণের শোধ হবে না আমার মা…।’

হাঁ, আসলেই মাতৃদুগ্ধ-ঋণ কখনোই শোধ হবার নয়। পৃথিবীতে যুগে যুগে এমন ছেলেরা আসে বলেই মা’কে বন্দনা করা এসব অমর গান আর কাব্যগুলোর সৃষ্টি হয়। মহিমান্বিত মা তার যোগ্য সন্তানকে পাশে পেয়ে ঠিক ‘মা’ হয়ে উঠেন। সন্তানও ধন্য হন মায়ের সেবা করতে পেরে।

বর্তমানে যান্ত্রিক আর আধুনিক যুগে এসে মায়ের জন্য এমন ত্যাগ স্বীকার! কল্পনারও অতীত যে! কিন্তু ওই দৃশ্যটি দেখা যায় পিরোজপুরের জিয়ানগরে। অসুস্থ মাকে মাথায় বহন করে প্রায়ই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার।

জিয়ানগরের পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জের চন্ডিপুর গ্রাম ১১০ বছর বয়সী অতিশয় বৃদ্ধা মা উষা রানী মজুমদারকে ঝুড়িতে নিয়ে মাথায় বহন করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান ছেলে ধীরেন্দ্রনাথ।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চণ্ডিপুর থেকে প্রায় ১০ মাইল দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রায়ই ডাক্তারের কাছে মাকে নিয়ে আসতে হয় ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারকে। মায়ের প্রতি সন্তানের এমন ভালোবাসার দৃশ্য নিজ চোখে না দেখলে কিছুতেই বোঝা যাবে না। ছেলের মাথায় ঝুড়িবন্দি বাকরুদ্ধ মা, ছেলে তাকে নিয়ে চলছে মাইলের পর মাইল।

মাঝপথে হয়তো ছেলে একটু জিরিয়েও নিয়েছে। আর বৃদ্ধ বয়সে মায়ের চোখে জলছল চোখ হয়তো প্রাণ ভরে দোয়া করছে।

মা সম্পর্কে ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারের সরল অভিব্যক্তি, ‘সৃষ্টিকর্তার পরই তো মা। তাই মায়রে মাথায় নিয়া হাঁটতে মোর কোন কষ্ট অয় না। টেকার লাইগা চিকিৎসা করাইতে পারি না, ভালুমন্দ খাওয়াইতে পারি না। তয় মায়রে মাথায় লইয়া হাটু সমান কাদা ভাইঙ্গা আইতে কোন কষ্ট ঠেহি না।’

ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারের মায়ের পল্লী চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ধীরেন্দ্রনাথ তার অসুস্থ মাকে মাথায় বহন করে নিয়ে আসেন আমার কাছে। উষা রানীর সুচিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন।

ছেলের একার পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব না। সমাজের বৃত্তবানরা সাহায্যে এগিয়ে এলে এই বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা করাতে পারে ধীরেন্দ্রনাথ। কেউ যদি এগিয়ে আসেন তাতে এই যোগ্য সন্তানের মায়ের প্রতি যে ভালোবাসা তাকেই সম্মান জানানো হবে।’