মাঝ পদ্মায় ফেরি থেকে ঝাঁপ দিলেন বাসচালক, ভাসলেন ২ কি.মি.

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০২০ | আপডেট: ৭:০০:অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০২০

দুর্বৃত্তদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেন মো. সোহেল (৩৯) নামের এক বাস চালক। সোমবার দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়ার ৫নং ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

পরে প্রায় ২ কিলোমিটার ভাটিতে মাঝ পদ্মা থেকে জেলে নৌকার সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

বাস চালক সোহেল ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকার মো. বছির মিয়ার ছেলে। তিনি রাজধানী সুপার ডিলাক্স নামক পরিবহনের চালক।

উদ্ধার হওয়া সোহেল জানান, তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় বোনের বাড়ি হতে কোহিনুর পরিবহনের একটি বাসযোগে ঢাকায় ফিরছিলেন। বেলা ২টার দিকে তাদের বাসটি নদী পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়ার ৫নং ফেরিঘাটে এসে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে উঠেন।

এ সময় তিনি বাস থেকে নেমে ফেরির পন্টুনের এক কোণায় এসে দাঁড়ালে তিন দিক থেকে ৩ জন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে তাদের কোমর থেকে পিস্তল বের করে তাকে গুলি করতে উদ্যত হয়। এ সময় তিনি কোনো কিছু না বুঝে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। মুহূর্তেই তীব্র স্রোতে তাকে মাঝ নদীতে নিয়ে যায়। ওই তিন ব্যক্তির কাউকে তিনি চেনেন না। এমনকি কারও সাথে তার কোনো শত্রুতা নেই বলেও জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. জমির মন্ডল (২৫) জানান, লোকটি নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পর কাছে থাকা ফেরি আমানত শাহ ও ভাষা শহীদ বরকত নামের দুটি ফেরি তাকে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু স্রোতের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় তিনি নদীর তীর দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে একটি জেলে নৌকা পান। পরে ইঞ্জিনচালিত ওই নৌকাটি নিয়ে দ্রুত মাঝ পদ্মা থেকে জেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সম্ভবত ছিনতাইকারীদের খপ্পড়ে পড়েছিলেন।

দৌলতদিয়া নৌ-থানা পুলিশের ওসি মো. আব্দুল মুন্নাফ জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি কাউকে চিনতে পারেননি। তবে তার বিবরণ অনুযায়ী একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পরে ওই ব্যক্তিকে তারা বাসায় যেতে ঢাকার একটি পরিবহনে তুলে দেয়া হয়েছে।