মাত্র ১০ সেকেন্ডে নদীতে ডুবে গেলো ৩ তলা বিপণি বিতান

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ২:৩০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮

শত শত দোকান নিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ডে নদীতে ডুবে গেলো ৩ তলা বিপণি বিতান। গড়ে তুলতে সময় লেগেছে কয়েক বছর। কিন্তু সেটি নাই হয়ে গেল এক নিমেষে।

জুলাই থেকেই শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদী গ্রাস করে নিচ্ছে জনপদ। বিভিন্ন এলাকায় ভবন মুহূর্তে চলে যাচ্ছে নদী গর্ভে। নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে কোটিপতি। উপজেলা সদরে দুইশ বছরের পুরনো মুলফৎগঞ্জ বাজারে এই বিপণি বিতানটি গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর হোসেন দেওয়ান।

সোমবার বেলা দুইটা ৫৫ মিনিটে ভবনটি পদ্মা নদীতে ধসে পড়ে। মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই দৃশ্যটি।

ধসে পড়ার এই ভিডিওটি মোট ৪০ সেকেন্ডের। নদী চারপাশ ভেঙে এই ভবনটিকেও কেড়ে নেবে, সেটি আগে থেকেই ধারণা করছিলেন স্থানীয়রা। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সেই দৃশ্য দেখছিলেন তারা।

ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির সামনের দিকের প্লাস্টার ভেঙে পড়া শুরু করতেই তাসের ঘরের মতো ভবনটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে নদীতে চলে গেল। সব মিলিয়ে এতটাই সময় কম লাগল যে সেটি ক্যামেরায় বন্দি না হলে হয়তো অনেকের দেখাই হতো না।

ব্যবসায়ী নুর হোসেন দেওয়ানের সর্বনাশের এখানেই শেষ হয়। এই ভবনটির পাশে তার তিনতলা আরেকটি ভবনে ছিল ক্লিনিক। সেই ভবনটির কিছু অংশও ধসে পড়েছে। এসব দেখে কান্নায় ভেঙে পরেন নুর হোসেন দেওয়ান।

একই দিন বাজারে আরও ১০০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে গত সাত দিনের ভাঙনে দুইশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। ভাঙনের হুমকিতে আছে আরও সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আতঙ্কে কোরপুর ও পূর্ব নড়িয়া গ্রামের প্রায় দুইশ পরিবার তাদের বাড়ি ঘর সরিয়ে নিয়েছে।

নুর হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের কিছুই অবশিষ্ট রইল না। আল্লাহ জানেন আমাদের ভাগ্যে কী আছে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, উপজেলা সদরের পাশে কেদারপুর ইউনিয়নে দুইশ বছর আগে মুলফৎগঞ্জ বাজারটি গড়ে উঠে। নড়িয়ার সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় ওখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। বাজারে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। ওই বাজারকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার অন্তত ১০ হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে।

গত বছর বাজার থেকে তিনশ মিটার দূরত্বে ছিল পদ্মা নদী। এ বছর জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ হতে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে নদী বাজারের কাছে চলে আসে।

সোমবার সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত ভাঙনে ১০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ২৫টি ওষুধের দোকান বিলীন হয়েছে। দুটি বেসরকারি ক্লিনিক সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গত সাত দিনে ওই বাজারের ২০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে।

বাজারের ব্যবসায়ী ও কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘বসতবাড়ি, ফসলিজমির পর আজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেছি আমরা। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারলাম না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াছমিন বলেন, ‘ভাঙনের কারণে মুলফৎগঞ্জ বাজারে ব্যবসায়ীরা বির্পযস্ত অবস্থায় পড়েছেন। ওই বাজারের প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বাজারটির ওপর ওই এলাকার অত্যন্ত ১০ হাজার পরিবার নির্ভরশীল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারি পর্যায়ে সহায়তা করা হবে।’