মাদক গ্রহণে বাধা; বিধবা মাকে পিটিয়ে মারল মেয়ে!

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ৮:১৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

মাদকের ভয়াল থাবার আরেকটি জ্বলন্ত নিদর্শন সৃষ্টি হলো সাতক্ষীরায়। রাজধানীতে বাবা-মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল মাদকাসক্ত মেয়ে ঐশী। এবার সাতক্ষীরায় মাদক গ্রহণ এবং বেপরোয়া চলাফেরায় বাঁধা দেওয়ায় মাকে পিটিয়ে হত্যা হত্যা করল মাদকাসক্ত মেয়ে! জানা গেছে অভিযুক্ত মেয়ের নাম টুম্পা খাতুন।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে। অনেকদিন ধরেই টুম্পা খাতুন ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করতেন। বেপোরোয়া চলাফেরার কারণে ৩ বছর আগে তার স্বামী তাকে তালাক দেয়। মা এগুলোর বিরোধিতা করায় মাকে প্রায়ই মারধর করতেন টুম্পা। ঘটনার দিন টুম্পা খাতুনের (২৪) রডের আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা মমতাজ বেগম (৪৮)। মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কয়েকবার বমি করেন তিনি। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মমতাজ বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেয়ার পথে রাতে মারা যায় মমতাজ বেগম। মাকে হত্যার পর স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে প্রচার করতে থাকে টুম্পা। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেওয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধারকালে টুম্পা পালিয়ে যায়। সেই থেকে পলাতক রয়েছে মেয়ে টুম্পা। এ ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ঘাতক মেয়ে টুম্পা খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মমতাজ বেগমের স্বামী আব্দুস সবুর সরদার মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। একমাত্র ছেলে শরীফও মাদকাসক্ত। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আসামি টুম্পাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।