মাদ্রাসায় সভাপতি হতে না পেরে দুই শিক্ষককে কোপালেন আ’লীগ নেতা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৪২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮
মাগুরা জেলা

মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটির সুপার ও সহকারী শিক্ষককে কুপিয়ে জখম করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহর আলি ও তার সহকর্মীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই শিক্ষককে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে মাগুরার শালিখা উপজেলার জুনারি মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা দুই শিক্ষকের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়।

এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার শালিখা উপজেলার জুনারি মহিলা মাদ্রাসায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি মজুমদার।

কিন্তু নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার সিরাজুদ্দৌজা নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি মজুমদারের নাম ঘোষণা করলে প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী আড়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহর আলি ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটান।

আহত মাদ্রাসা সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আশরাফ আলির ছেলে হাদিউজ্জামান জানান, বিকাল ৪টার দিকে তার বাবা মাওলানা আশরাফ আলি ও অপর সহকারী শিক্ষক নাজির হোসেনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মাদ্রাসা থেকে আড়পাড়া সদরে ফিরছিলেন। পথে কাতলি এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগ নেতা শহর আলি তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি মজুমদার জানান, দুপুরে মাদ্রাসার নির্বাচন ছিল ঠিকই। কিন্তু এই সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। পুরনো শত্রুতার জের ধরেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তাছাড়া তাদের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ছিনিয়ে নেয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধারে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শালিখা থানা ওসি রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার এমপির ছোট ভাই বিমল শিকদার।