মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে পরীক্ষা দেয়া হলোনা ১৫ শিক্ষার্থীর!

হাবিবুল্লাহ হেলালি হাবিবুল্লাহ হেলালি

দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০ | আপডেট: ৫:৫৪:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০
প্রতীকী ছবি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের “সিদ্দিকীয়া আকবর (রাঃ) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারনে এবার দাখিল পরীক্ষা দিতে পারছে না ১৫জন ছাত্র-ছাত্রী। পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে না পেরে বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা এর মধ্যে প্রতিষ্টানের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় গত ৪দিন ধরে মাদ্রাসা সুপার আত্মগোপন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী । পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরীক্ষার্থীরা গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে দোহালিয়া ইউনিয়নে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। চলতি বছরে এই মাদ্রাসা থেকে ১৫জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার কথা ছিল। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সময় মতো প্রবেশপত্র না দেয়ায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পেরেএখন চরম হতাশায় পড়েছে। এদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী খাওয়া-ধাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের অভিভাবকরা। এ ঘটনায় পূরো উপজেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, সময় মতো তারা ফি পরিশোধ করে রেজিষ্টশন করলেও অত্র মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিত চরম গাফিলতির কারণে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেনা।

তারা জানায়, একটি বছর নষ্ট করে তিনি এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিতের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। গত ৪দিন ধরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
এবিষয়ে সহকারী-সুপার মাওলানা জায়েদ আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের এবার দাখিল পরীক্ষা দিতে না পারার জন্য মাদ্রাসা সুপার সাহেব দায়ী। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।

জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.মেহের উল্লা বলেন, মাদ্রাসা সুপার দাখিল পরীক্ষার্থীদের রেজিষ্টেশন না করিয়ে তাদের আবার পরীক্ষার পূর্বে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এবিষয়ে শিক্ষার্থীরা আমার কাছে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এবিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।