মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের মাছসহ জলজপ্রাণীর মড়ক ঠেকাতে রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগ

আব্দুর রব আব্দুর রব

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৬:২৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক জলপ্রপাত ও পিকনিক স্পট মাধবকুন্ডের জলাশয়ের মাছসহ অন্যান্য জলজপ্রাণীর মড়ক ঠেকাতে ও পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে রাসায়নিক ঔষধ ছিটানো হয়েছে। বড়লেখা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মাছ ও জলজপ্রাণীর মড়ক ঠেকাতে এবং পানির গুণাগুণ ফিরিয়ে আনতে মৎস্য বিভাগ জলপ্রপাতের পানিতে ঔষধ প্রয়োগ করেছে। পানির পিএইচ, দ্রুবিভূত অক্সিজেন, এমোনিয়া, হার্ডনেস, টিডিএস স্বাভাবিক আছে। আশা করছেন, এখন থেকে আর মাছ মারা যাবে না। পানিতে রাসায়নিক জাতীয় বিষ পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ পাহাড়ি বিষলতা পানিতে প্রয়োগ করার কারণে মাছ ও জলজপ্রাণী মরেছে। পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রয়োজনে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হবে। বিষয়টি মৎস্য বিভাগের উর্ধতন পর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এরকম কোন ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য কিছু পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে মাধবকুণ্ডের মাছ ও জলজপ্রাণীর নিধনের ঘটনায় বন বিভাগের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস সোমবার রাতে বড়লেখা থানায় একটি জিডি করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে তিনি থানায় জিডি করার বিষয়টি জানিয়েছেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছেন। মাছ ও জলজপ্রাণী নিধনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জানা গেছে, গত শনিবার সকালে মাধবকুন্ড এলাকায় পর্যটক, পর্যটক পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন মাধবকুন্ডের পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী ভেসে ওঠতে দেখেন। এরমধ্যে ছিল পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, ব্যাঙ, পাহাড়ি চিংড়ি, পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের জলজপ্রাণী ও কীটপতঙ্গ। এগুলো মরে পচে যাওয়ায় জলপ্রপাত এলাকার বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জলপ্রপাতের পানিতেও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় লোকজনের ধারণা মারা যাওয়া বামাস মাছের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর হতে পারে। স্থানীয় লোকজন ও মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের কর্মীরা মরা মাছ পানি থেকে তুলে ফেলেন। বাতাসে ও পানিতে পচা মাছের গন্ধ বিরাজ করায় শনিবার থেকে দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকরা মাধবকুণ্ড থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে যান। মঙ্গলবারও মাধবকুণ্ডে পর্যটকের পদচারনা স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি।