মানবপাচার ও মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০ | আপডেট: ৮:০২:অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০
ছবি: টিবিটি

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চোরাই মোটর সাইকেলসহ এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার মোকনা বাজার বনিক সমিতির অফিসের সামনে থেকে তাকে মোটর সাইকেলসহ আটক করা হয়। আটককৃত আনিসুর রহমান আনোয়ার উপজেলার কোনড়া গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে ও মোকনা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার বিষয়ে একটি অভিযোগ রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

জানা যায়, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে। বিদেশে পাঠানোর নাম করে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং বিদেশে লোক পাঠিয়ে সেখানে তাকে নির্যাতন করে দেশে তার ওই লোকের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মোকনা ইউনিয়নের কোনড়া গ্রামের রহিমা বেগম নামের এক নারী নাগরপুর থানায় গত শুক্রবার এমন একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন, তার স্বামী নূরমোহাম্মদকে গত বছরের ডিসেম্বরে আনোয়ার সৌদি পাঠায়। পাঠানোর পর পরিবারের সাথে নূরমোহাম্মদ কোন যোগাযোগ করেনি। হঠাৎ দুই মাস পর বাড়িতে ফোন করে জানায় আনোয়ারের লোকজন আমাকে সৌদিতে একটি ঘরে বন্দি করে নির্যাতন করছে। আনোয়ারকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমাকে তারা মেরে ফেলবে। তার পর থেকেই নূরমোহাম্মদের সাথে পরিবারের যোগাযোগ নেই। সে বেঁচে আছে না মেরে ফেলা হয়েছে এনিয়ে পরিবারের লোকজন শংকিত। পরে এনিয়ে আনোয়ারের সাথে এলাকায় সালিশী বৈঠকও হয়েছে। আনোয়ার বলেছে টাকা দিলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

অভিযোগ পাওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগরপুর থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে উপজেলার মোকনা বাজারে অভিযান চালিয়ে বনিক সমিতির অফিসের সামনে থেকে আনোয়ারকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে একটি চোরাই ১০০সিসি বাজাজ ডিসকভার মোটর সাইকেলসহ উদ্ধার করা হয়। পরে নাগরপুর থানার সহকারি উপপরির্দশক (এএসআই) জহিরুল আলম বাদী হয়ে আনোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নাগরপুর উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ভক্তগোপাল রাজবংশী পিন্টু বলেন, ব্যক্তির অপরাধ দল বহন করবে না। বিষয়টি জানার পর সাংগঠনিকভাবে তাকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।

নাগরপুর থানার উপপরির্দর্শক নূরমোহাম্মদ জানান, আনোয়ারের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মানবপাচারের অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা করা হবে এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।