মান্দায় বেড়েছে চুরির হিড়িক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৭:অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় ওসি শাহিনুর রহমান যোগদানের পর থেকেই বেড়েছে চুরি। উপজেলা জুড়ে কোন রকমেই যেন থামছেনা চুরির হিড়িক। চোরেরা চুরির জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে মান্দা উপজেলাকে। আর এই কারণে প্রায় প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে চুরি। এতে করে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন? গরু থেকে শুরু করে দোকানের মালামাল, অটোরিকশা, শ্যালোমেশিন, মোটরসাইকেল ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটছে অহরহ।

জানা গেছে, গত ২৬/১০/২০ ইং তারিখে অফিসার ইনচার্জ হিসেবে থানায় যোগদান করেন শাহিনুর রহমান। যোগদানের গত আট মাসে ১৫টি গরু চুরি ও দোকান ঘর ও মাঠে শ্যালোমেশিনসহ ৬টি চুরিসহ আরো চুরির ঘটনা ঘটেছে।

চলতি বছরের গত ১৩ জুন বিকেলে প্রসাদপুর দুধের বাজারের পাশে অটোরিকশা চুরি ঘটনা ঘটেছে। রোজার মাসে প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর খাঁ-পাড়া গ্রামের রাসেলের বাড়ি থেকে গরু চুরি হয়। গত ২৭মে রাতে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বালিচ গ্রামে শাহিন আলমের খামার থেকে অস্ট্রেলিয়ান জাতের দুইটি গাভী সিদ কেটে চুরি হয়।

২৫ মে পলাশবাড়ি বাজারে আব্দুল্লাহেল বাকির টেলিকম ও ভ্যারাইটি ষ্টোর দোকানের ছাউনির টিন কেটে দুঃধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়। ১মার্চ তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কুরকুচি বিলে একই রাতে ৯টি শ্যালোমেশিন চুরি হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্সে নগদ টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি যায়। ২১ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের চৌদ্দমাইল মোড়ে নৈশ প্রহরীকে বেঁধে রেখে ৬ দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরেরদল।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর গনেশপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন পশ্চিমপাড়া গ্রামে সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল, ১২ হাজার টাকা ও স্বর্ণের একটি চেইন চুরি করে। ৯ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের বাড়িতে তিনটি গরু চুরি হয়েছে। এছাড়াও ওই সময় গত এক সপ্তাহে এই গ্রামে তিন পরিবারের ৭টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরেরদল। ২৯ নভেম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের রুবেল হোসেনের গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান জাতের দুটি গাভী চুরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক তদারকি ও টহল না থাকায় কারণে প্রায় চুরির ঘটনায় ঘটছে উপজেলা জুড়ে।

পুলিশের সঠিক তদারকি না থাকায় ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে চুরির পর চুরি করে পার পেয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোর চক্র। জীবনের শেষ অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকে। এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রের কাছ থেকে রক্ষা পেতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। তবে মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান উপজেলা জুড়ে আইন শৃঙ্খলা এই অবনতি দায়ভার এড়াতে পারেন না।

স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে এতো বড় একটি উপজেলা চলতে পারে না। আমরা এখন অনেক ভয়ে থাকি কখন যে আমাদের সব কিছু চুরি যায়। অতি দ্রুত সংঘবদ্ধ চোরদের গ্রেফতার করা না হলে চুরি থামবেনা। স্থানীয়রা আরও জানান চুরির পর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এরপর আর খোঁজ খবর থাকে না। সাধারণ মানুষ হিসেবে আর কি করার আছে আমাদের। নিজেরা চুরি যাওয়া মালের সন্ধান করে এক সময় থেমে যেতে হয়।

মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্স এর মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, চুরির হওয়ার পর থানায় অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একজনকে পুলিশের কাছে ধরে দিয়েছিলাম। ওই চোর পুলিশের কাছে দুইজনের নামও বলেছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের আটক করেনি। এখানে পুলিশের ভুমিকা নিরব। এর পিছনে যদি কিছু টাকা খরচ করি সেটাও লোকসান হয়ে যাবে। একারণে আর সামনে এগিয়ে যায়নি।

প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর খাঁ পাড়া গ্রামের রাসেল জানান, এ বছর ঈদুল ফিতরের দুইদিন আগে রোজার মধ্যে আমার তিনটি গরু চুরি হয়। এর পরেই থানায় অভিযোগ করেছি। তবে অভিযোগ করে কোন ফল পাইনি। পুলিশও আর যোগাযোগ করেনি। যদি আবারও থানায় যাই তাহলে একটা খরচের ব্যাপার থাকে। পরে মনে করলাম এ বিষয়ে পুলিশের পিছনে যা খরচ করবো তা লস হবে। যেহেতু এখনো গরু উদ্ধারের ব্যাপারে কোন কাজ করেনি পুলিশ।

বালিচ গ্রামে শাহিন আলম বলেন, গরুর চুরির হওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিলাম। কিন্তু কোথাও পাইনি। গরু দুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম। তিনি থানা পুলিশকে জানিয়েছিল বলে শুনেছি।

ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, চুরি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা যায় না।

এ ব্যাপারে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, চুরি রোধ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া এখনো চেষ্টা করতেছি। কিছু উদ্ধার করেছি এবং কিছু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) মতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের কাছে যে কয়টা অভিযোগ এসেছে সেসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারও আছে।