মামুনুলের বিয়ে বিতর্ক : মিলছে চতুর্থ বিয়ের তথ্য

প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১ | আপডেট: ৩:০৮:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১
ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্নস্থানে সহিংসতার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিয়ে নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। রিসোর্টকাণ্ডের পর দ্বিতীয় বিয়ে বা মানবিক বিয়ের রেশ না কাটতেই আলোচনায় আসে তার কথিত তৃতীয় বিয়ের।

এবার ঘটনাপ্রবাহে মামুনুলের চতুর্থ বিয়ের বিষয়েও মিলছে তথ্য।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, রিমান্ডে মামুনুলকে মামলা সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন করা হলেও ঘুরে-ফিরে আসছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে নাশকতাসহ বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা। এসব বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে। সাত দিনের রিমান্ডের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র  কে জানায়, মামুনুলকে পুলিশের একাধিক ইউনিট বিভিন্ন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। রিমান্ডে আনার পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রসঙ্গক্রমে ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চে হেফাজতের নাশকতার বিষয়টি উঠে আসে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘সরকারের শীর্ষ মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে সমালোচনা করছেন, তাদের ‘জুতাপেটা’ করার ঘোষণা দিয়েছেন। সেকথাগুলো ওয়াজ মাহফিলে বলে এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়ে কওমি মাদরাসার কোমলতি শিশুদের আক্রমণাত্মক করেছেন। এই ঘটনার দায় তো আপনি এড়াতে পারেন না। আপনার উসকানিতে নাশকতাগুলো হয়েছে’। জবাবে মামুনুল হক বলেন, ‘যেহেতু আমি নেতা, আমি তো দায় এড়াতে পারিই না’।

সূত্র জানায়, রিমান্ডে মামুনুলের কাছে তার পারিবারিক জীবন, শিক্ষকতাসহ নানা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পুলিশের সব প্রশ্নে অকপটে উত্তর দিয়েছেন মামুনুল। কোনো প্রশ্ন তাকে দুইবার জিজ্ঞেস করতে হয়নি।

রিমান্ডে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনার পাশাপাশি মামুনুলকে ব্যক্তিগত-পারিবারিক বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি পুলিশের কাছে বাকি দুই বিয়ের কথা স্বীকার করলেও এ সংশ্লিষ্ট কোনো বৈধ কাজপত্রের বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। বার বারই ‘শরিয়াহ মোতাবেক’ বিয়ে হয়েছে দাবি করে কাবিননামা বা রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রথম স্ত্রী ছাড়াও আলোচিত বাকি দুই নারীর বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুল দাবি করেন, স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে শরিয়াহ মোতাবেক দুইজনকেই তিনি বিয়ে করেছেন। শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ের নামে আদতে স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে ওই দুই নারীর সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন মামুনুল। ইতোমধ্যে ওই চুক্তির কপিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, মামুনুল হক তাদের বিয়ে করবেন না, স্ত্রীর মর্যাদাও দেবেন না। তবে তাদের ভরণপোষণ দেবেন। এই শর্তে স্ত্রীর মতো করে ওই নারীদের সঙ্গে মিশবেন তিনি।

এ বিষয়ে মামুনুল পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন, স্ত্রীর মর্যাদা না দিলেও তাদের ভরণপোষণ দিচ্ছেন, তার বিনিময়ে তারা তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন। এটা ইসলামের বিধিবিধানের মধ্যেই তিনি করেছেন এবং এটা শরীয়ত সম্মত।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি ইউনিট জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা মামুনুল হকের বিষয়ে ছায়া তদন্ত করছে। তদন্তে তারা মামুনুলের ‘চতুর্থ বিয়ে’র বিষয়ে ‘কিছু তথ্য’ পেয়েছে। তবে সে বিষয়ে এখনই সরাসরি বক্তব্য দিতে চাইছে না তারা।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও তদন্তের বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন-অর-রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ মানুষকে উসকানি, সরকারকে বিদায় করা, মন্ত্রীদের কটূক্তি করার বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। এছাড়া এসব কাজে তাকে (মামুনুল) দেশ বা দেশের বাইরে থেকে কেউ প্যাট্রোনাইজ (পৃষ্ঠপোষকতা) করছে কি-না, অর্থ দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বা আফগানিস্তান বানানোর প্রচেষ্টা হচ্ছে কি-না, সবকিছুই আমাদের তদন্তে আসবে।