মারোত’র মানবিকতায় মানসিক রোগীদের নিয়মিত খাবার ও ২৮ জনকে সুস্থ্য করে পরিবারের কাছে হস্থান্তর

সফিউল আলম সফিউল আলম

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৯:০৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

“সেবা ও মানবতা বোধ জাগ্রত করে বিবেক, মানুষের কল্যাণে উজ্জীবিত হোক আবেগ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজারের টেকনাফে ১০১ জন মানসিক রোগীদের খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে মানসিক রোগীদের তহবিল (মারোত) এর চতুর্থ বছর পার করেছে।

শনিবার দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের সাবরাং জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ উপলক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মারোতের প্রধান উপদেষ্টা টেকনাফ সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সন্তোষ কুমার শীলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক টিটু চন্দ্র শীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সিফাত বিন রহমান, মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক প্রণয় রুদ্র, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চ্যানেল ২৪ জেলা প্রতিনিধি নুপা আলম, কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক দৈনন্দিন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শফিউল আলম , দৈনিক প্রথম আলোর টেকনাফ প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন, অনলাইন নাফ টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম প্রমূখ।

মারোত সূত্র জানায়, মানসিক রোগীদের তহবিল (মারোত)এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি। টেকনাফ উপজেলায় কর্মরত কিছু ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি চিকিৎসক শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মিলিয়ে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকে ২০জন সদস্যের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে এ সংগঠনটি প্ররিচালিত হয়ে আসছে। এরপর থেকে সংগঠনের সদস্যরা মানসিক রোগীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করে আসছেন। অসহায় এসব মানুষকে চিকিৎসা সেবা, শীতবস্ত্রের পাশাপাশি সৎকার ও দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অসহায়দের যত্নআত্তি ছাড়াও হারিয়ে যাওয়া মানুষকে পৌঁছে দেন পরিবারের কাছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী যখন কোভিড-১৯ সংক্রমণে একের পর এক রাষ্ট্র যখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠিক তখনই টেকনাফে এসব মানসিক রোগীদের কথা বিবেচনা করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৭৮ দিন খাবার বিতরণ করে আসছে।

ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সংগঠনটি এ পর্যন্ত সারাদেশে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া (মানসিক রোগী) ২৮জন নারী-পুরুষকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত আনন্দদায়ক। এ রকম আর কোনো সংগঠন প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গড়ে তুলতে পারলে মানবতার বোধ জাগ্রত হবে। তখন সমাজে আর কোনো ধরনের মানুষ অবহেলিত থাকবে না। মানসিক রোগীদের জন্য টেকনাফে একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।