মালয়েশিয়ায় খুন : ৪২ দিন পরে সাজেদার লাশ পেল পরিবার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ৩:২৬:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

টিবিটি প্রবাস খবরঃ পারিবারিক কলহের জের ধরে সাজেদা-ই-বুলবুলকে খুনের পর ৭ টুকরো করে দুটি ল্যাগেজে ভরে মালয়শিয়ার পুত্রা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছে নদীর তীরে ফেলে রাখে স্বামী শাহজাদা সাজু। ৪২ দিন পর সাজেদার লাশ তার পরিবারের কাছে পৌঁছেছে।

শুক্রবার বিকাল ৫টায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে লাশটি পটুয়াখালী নেয়া হয়। এসময় স্বজনদের আহাজারীতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সাজেদার ৬ বছরের শিশুকন্যা মুগ্ধ এবং সাজেদার বাবা আনিস হাওলাদার ও মা মমতাজ বেগম এবং স্বজনদের কান্নার রোল পরে যায়।

জানাজা শেষে শুক্রবারই পৌর কবরস্থানে সাজেদার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে গত ৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার একটি আদালত স্বামী সাজুকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। প্রসঙ্গতঃ ৫ জুলাই মালয়েশিয়ায় খুন হন পটুয়াখালী শহরের আদালত পাড়ার বাসিন্দা আনিচ হাওলাদারে মেয়ে ও এক শিশু কন্যা সন্তানের জননী সাজেদা-ই-বুলবুল।

পারিবারিক কলহের জের ধরে সাজেদাকে সাত টুকরো করে দুটি ল্যাগেজে ভরে মালয়শিয়ার পুত্রা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছে নদীর তীরে ফেলে রেখে গা ঢাকা দেয় স্বামী শাহজাদা সাজু।

ওই দিন স্থানীয় লোকজন ওই ল্যাগেজ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দুটি ল্যাগেজ থেকে বুলবুলের টুকরো উদ্ধার করে। এঘটনার পর স্বামী শাহজাদা সাজুকে ২৫ জুলাই মালয়েশিয়ার পুলিশ সীমান্তবর্তী জহুর বারু এলাকা থেকে আটক করে।

২০০৪ সালে মির্জাগঞ্জ উপজেলার আন্দুয়া গ্রামের শাহজাদা সাজুর সঙ্গে সাজেদা-ই-বুলবুলের বিয়ে হয়। তার স্বামী সাজু মালয়েশিয়ার একটি শপিং মলের জুনিয়র সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শুরু থেকেই বুলবুলের উপর মানসিক ও শারিরীক নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও ২০১৬ সালে তাকে উচ্চ শিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যায়। তখন চার বছরের মেয়ে মুগ্ধকে দেশে রেখে যাওয়া হয়।

নিহত বুলবুল মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে আইন বিষয়ে স্নাকত্তোর ডিগ্রি অর্জন করেন।