মাশরাফির সংসার করার সূত্র

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৪৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮

টিবিটি খেলাধুলাঃ জাতীয় দলের অনেক তরুণ ক্রিকেটারই নারী কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত। বিতর্কিত তাদের পিছুই ছাড়ে না। অথচ তাদের হাতের কাছেই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন একজন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তার। এই ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটা ‘স্ক্যান্ডাল’ও নেই। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সংসারই করে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে।

পরিস্থিতিটা এমন, একটু তারকাখ্যাতি গায়ে লাগলেই মাথা ঘুরে যায় তরুণ ক্রিকেটারদের। মত্ত হয়ে পড়ছে নারী সঙ্গের প্রতি! সেখানে মাশরাফি কিভাবে গেঁথে রেখেছেন আপন মানুষদের? কিভাবে নিজের মাথাটা ঠিক রেখেছেন? কিভাবেই বা ক্রিকেটের সঙ্গে সমান্তরালে সামলাচ্ছেন নিজের সংসার?

মাশরাফির কাছে সূত্রটা খুব সহজ। তার মতে, অন্য পেশার মানুষদের জন্য সংসার করা যতটা কঠিন, ক্রিকেটারদের জন্য সংসার করা তার চেয়ে অনেক বেশি সহজ। প্রয়োজন শুধু সঙ্গীনির সঙ্গে বোঝাপড়াটা তৈরি করা। দরকার ভালোবাসার বন্ধনটা শক্ত করা।

এশিয়া কাপ খেলতে আগামী রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। তার আগে আজ বৃহস্পতিবার মিরুপরে হয়ে গেল সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ, অগুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন মাশরাফি। বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক কথা বলেছেন আমিরাতের কন্ডিশন, উইকেট, মাঠ সম্পর্কেও।

ওই সংবাদ সম্মেলনেরই শেষ দিকে এক সাংবাদিক করে বসেন প্রশ্নটা। তরুণ ক্রিকেটাররা যেখানে হরহামেশাই নারী বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন, সেখানে তিনি কিভাবে এতো বছর ধরে নিজের শ্বেতশুভ্র, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ধরে রেখেছেন? স্ত্রী সুমনা হকের সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধনটাই বা অটুট রেখেছেন কিভাবে?

ক্রিকেট মাঠের ব্যস্ততার মধ্যেও সংসারের সুতোটা কিভাবে পাকা হাতে ধরে রেখেছেন? উত্তর মাশরাফি বললেন, ‘ক্রিকেটের সঙ্গে সংসার…যারা চাকরি করছে তারাও তো সংসার করছে। এখানে কঠিন কিছু নেই। পুরো বিষয়টিই হচ্ছে একজনের সঙ্গে আরেকজনের বোঝাপড়ার বিষয়। আমার তো মনে হয়, অন্য চাকরিজীবীদের চেয়ে আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য সংসার করাটা অনেক বেশি সহজ।’

কেন সহজ, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘ক্রিকেটে আমাদের তো অনেক বিরতি থাকে। সুযো্গ থাকে পরিবার নিয়ে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর। এটা একজন চাকরিজীবী বা অন্য পেশার মানুষদের থাকে না। এটা যুগলদের জন্য আরও বেশি মজার। খেলাধুলা আসলে সম্পর্কের বন্ধনটা আরও শক্ত করে।’

ক্রিকেট মাশরাফির প্রাণ। সেই প্রমাণ অনেকবারই দিয়েছেন তিনি। চোটজর্জর ক্যারিয়ারে কত বারই তো ক্যারিয়ারের শঙ্কার সুর বেজেছে। কিন্তু অদম্য মনোবল আর ক্রিকেটের প্রতি অগাধ ভালোবাসার জোরে ঠিকই আবার ফিরে এসেছেন জাতীয় দলে। এই যে মাশরাফি চোটের সঙ্গে আজন্ম লড়াই করে এখনো টিকে আছেন, এর পেছনে স্ত্রী সুমনা হকেরও রয়েছে বড় অবদান। স্ত্রীর ভালোবাসা লড়াইটা অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে তার জন্য।

মাশরাফিও স্ত্রীকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। যে ক্রিকেট তার প্রাণ, স্ত্রীর অসুস্থতায় সেই ক্রিকেটকেও ‘তুচ্ছ’ করতে পিছপা হননি। স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়েই ইংল্যান্ড থেকে অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে এসেছেন। দেশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রীর পাশে। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েছেন দেরিতে। একজন দায়িত্ববান স্বামী হিসেবে মাশরাফি স্ত্রীর পাশে থেকেছেন সময় সময়, ‘ক্রিকেট খেলাটা ভীষণ ভালোবাসি। কিন্তু জীবনে খেলাই তো সব নয়।’

মাশরাফির এই কথাগুলো শুনে সাব্বির, নাসির, মোসাদ্দেকরা যদি অনুপ্রাণিত হতেন?