মাসে বেতন তোলেন ৮০ হাজার, দু’মাসে অফিস করেছেন দু’দিন!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২০ | আপডেট: ১২:১৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২০

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বর্হিবিভাগে থাকার কথা কর্মরত চিকিৎসকদের। কিন্তু প্রায় সাত বছর ধরে সপ্তাহে দুই দিন ঘণ্টা খানেকের জন্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট।

আর এ অবস্থায় গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে তিনি সর্বসাকূল্যে দুই দিন কর্মস্থলে ছিলেন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন উত্তোলন করে নিলেও অক্টোবর মাসের বেতন উত্তোলনের জন্য গত পরশু রবিবার তিনি মাসের প্রথম তারিখেই কর্মস্থলে এসে জানান দেন তিনি হাজির।

তবে আজ মঙ্গলবারও ফের তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট দেলোয়ারা পারভিন ডলির বিরুদ্ধে।

অথচ সরকারি হাসপাতালে ডিউটির জন্য সরকার মাস শেষে ৮০ হাজার ৫৫৬ টাকা করে বেতন দিচ্ছে। তার মধ্যে মূল বেতন ৫৮ হাজার ৫৬০, বাড়ি ভাড়া ২০ হাজার ৪৯৬ ও চিকিৎসা ১৫ শ টাকা।

বেতন পুরোটা পেলেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন না এক আনাও! অথচ প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহর ময়মনসিংহের দি সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন। তাঁর এমন ফাঁকিবাজির কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। হচ্ছে না কোনো সিজার।

হাসপাতালের প্রশাসনিক দপ্তর ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৮ জুন ডা. ডলি যোগ দেন নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এরপর পর থেকেই তিনি সপ্তাহে শুধু রবি ও বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে আসছেন। এ অবস্থায় গাইনি চিকিৎসকের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আগত রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, কর্মস্থলে না আসার কারণে বেশ কয়েকবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারির পরও তিনি ইচ্ছামাফিক কর্মস্থলে যাওয়া আসা করেন। সপ্তাহে দুই দিন আসলেও আউটডোরে (বর্হিবিভাগ) আসেন ১২টার দিকে। একটা বাজতে না বাজতেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

গত রবিবার হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে অবস্থান করলে দেখা যায়, ওই চিকিৎসক আসেন ১১টার পর। ওই কার্যালয়ে থাকা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে আসার একপর্যায়ে জানতে চাওয়া হয়, আপনার কাছ থেকে হাসপাতাল তো নিয়মিত সেবা পাচ্ছে না এ বিষয়ে কী বলবেন?

ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসক বলেন, এটা তো প্রশাসন দেখবে। আপনাদের দেখার কথা নয়। আপনি হাসপাতালে না আসলেও ময়মনসিংহ জেলা শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ফের রেগে গিয়ে বলেন, ‘দেখি তো, তাতে কী!

‘ এই বলে চেয়ার থেকে উঠে যান। গতকাল সোমবার ফের হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি কর্মস্থলে নেই। না আসার কারণ জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে ফোন করলে ফোন রিসিভ করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিজিটাল হাজিরায়ও তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ধরা খেয়েছিলেন। হাসপাতালের এক নারী পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে দিয়ে তাঁর নামের বিপরীতে হাজিরা দিতেন। ঘটনাটি প্রকাশ হলে ওই চিকিৎসকের প্রভাবে সাবেক কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ডিজিটাল মেশিনটির ফিঙ্গারিং ঠিক করে নেন।

অন্যদিকে, তিনি নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট হলেও ময়মনসিংহ জেলা শহর চরপাড়া এলাকায় অবস্থিত দি সান ডায়াগোনোস্টিক সেন্টারে বিশাল সাইনবোর্ডে নান্দাইলের কর্মস্থলের পরিচয় না দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক্স কনসালট্যান্ট লিখেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা.মো.মাহমুদুর রশিদ জানান, তিনি এখানে যোগ দিয়েছেন দুই মাস হয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) দেলোয়ারা পারভিন ডলি দুই দিন কর্মস্থলে ছিলেন ঘণ্টা খানেকের জন্য।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক ডলি মোবাইল ফোনে জানান যে তিনি অসুস্থ। তাঁর অনুপস্থিতি ছুটি হিসেবে দেখিয়ে দিতে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ধরনের লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন এবিএম মসিউল আলম প্রথমে ওই চিকিৎসককে চিনতে পারেননি। পরে বলেন, এ বিষয়ে আমার জানতে হবে, বুঝতে হবে। এ ধরনের অনিয়ম সর্ম্পকে আপনি কি বলবেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সব তো আমার মাথায় থাকে না। ছুটি নেওয়া সর্ম্পকে বলেন,দীর্ঘমেয়াদি ছুটি নেওয়ার বিধান নেই।