মাস্ক না পরলে মিলবে না কোনো সরকারি সেবা – আসছে নির্দেশনা

প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০ | আপডেট: ৮:১৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ফাইল ছবি

আসন্ন শীত মৌসুমে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাস্ক না পরলে হাসপাতাল, ক্লিনিক, আইন শৃঙ্খলা, আদালতসহ কোথাও সরকারি সেবা পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, এমন নির্দেশনার কথা সারা দেশে ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নবনির্মিত কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব জোন-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, হাসপাতাল-ক্লিনিকের ব্যানার, থানা-আদালত, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সব জায়গায় লেখা থাকবে— আপনারা যদি সেবা পেতে চান, মাস্ক পরে আসতে হবে। ‘মাস্ক না পরলে সেবা নয়’— এমন নির্দেশনা রাজধানীসহ উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে টাঙানো থাকবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে অনেক সমালোচনা করেছে। কিন্তু আপনারা জানেন, আমাদের স্বাস্থ্য খাত যে ভালো করেছে, প্রধানমন্ত্রী তার স্বীকৃতি দিয়েছেন। চিকিৎসকরা ভালো করেছেন, নার্সরা ভালো করেছেন, মন্ত্রণালয়ের লোকেরা ভালো করেছেন— তার স্বীকৃতি উনি দিয়েছেন। বারবার প্রশংসা করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিবও প্রশংসা করেছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন যে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে ভালো করেছে। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, করোনাকালে বিশ্বের অনেক দেশই থমকে গেছে। বাংলাদেশও অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় এগিয়ে যাচ্ছি। সবকিছু কাটিয়ে উঠে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে যে সেকেন্ড ওয়েভের কথা বলা হচ্ছে, আশা করি বাংলাদেশ সেভাবে আক্রান্ত হবে না। কিন্তু আমাদের সজাগ হতে হবে। আমাদের কাজ করতে হবে। নতুন নতুন চিন্তা করতে হবে। তবেই আমরা ইনশাল্লাহ ভালো থাকব।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বাড়ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী মাসেই (নভেম্বর) হাসপাতালের বর্ধিত অংশে চিকিৎসাসেবা চালু করা যাবে। এতে স্বল্পমূল্যে দেশের আরও বেশি মানুষ হৃদরোগের চিকিৎসা পাবেন। এ হাসপাতালে আগে ৪১৪ শয্যা ছিল। আর বর্ধিত অংশের কাজ শেষ হলে এক হাজার ২৫০ শয্যায় উন্নীত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। করোনায় সারাবিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অনেক কমেছে। করোনা চিকিৎসার জন্য দেশের হাসপাতালে আলাদা করে ১৫-২০ হাজার শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ছিল না। আমরা ৭৮টি হাসপাতালে সেন্টার অক্সিজেন লাইন স্থাপন করার অনুমোদন দিয়েছি। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা স্থাপন করেছি। এখন হাসপাতালের আইসিইউগুলো ভালো চলছে।

শীতকালে সীমিত আকারে অনুষ্ঠান করার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শীতকালে দেশে আবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে। এটি মোকাবিলা করার জন্য অবশ্যই সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া শীতকালে যেসব অনুষ্ঠান বেশি হয়, সেসব অনুষ্ঠানগুলো সীমিত আকারে করার অনুরোধ করেন তিনি।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালকের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হৃদরোগের চিকিৎসা বিশ্বমানের করার জন্য ওসিটি মেশিন, রোটা বোটার মেশিন, কার্ডিয়াক এমআরআই মেশিন দেবেন বলে আশ্বাস দেন জাহিদ মালেক।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মীর জামাল উদ্দীন বলেন, এ হাসপাতালে ৪১৪ শয্যা থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী ফ্লোরে থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে এখান থেকে আরও অনেক রোগীর চিকিৎসা দেওয়া যাবে। দেশের অনেক মানুষ উপকৃত হবে।

অধ্যাপক মীর জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজসহ অন্যান্যরা।