মাহদেবপুরে জেলার সর্বাধিক মন্দিরে শারদীয় দূর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে

প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

এম. সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে জেলার সর্বাধিক মন্দিরে শারদীয় দূর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে। আর ক’দিন পরেই শান্তির বার্তা নিয়ে ভবে অবতরন করবেন হিন্দু স¤প্রদায়ের দুর্গত নাশিনী দেবী দুর্গা। সে উপলক্ষে উপজেলার হিন্দু পাড়ার প্রতিটি মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।

দম ফেলার সময় নেই প্রতিমা তৈরির কারিগরদের। তবে আয়োজকদের প্রত্যাশা খরচ যতই হোক পূজার আয়োজন যেন জাকজমকপূর্ণ হয়। গতকাল রোববার মহাদেবপুর সদরের শ্রী শ্রী রঘুনাথ জিউ মন্দির, শ্রী শ্রী ব্রাহ্মণপাড়া সর্বজনীন দূর্গা মন্দির, মহাদেবপুর মধ্যবাজার কালী মন্দির, ঘোষপাড়া দেব মন্দির, মধ্য ঘোষপাড়া সর্বজনীন দূর্গা মন্দির, বালুকাপাড়া শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, দুলালপাড়া দূর্গা মন্দিরসহ বেশ কিছু দূর্গা মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মন্দিরেই প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে।

এখন শুধু বাঁকী রয়েছে শিল্পীদের রঙের কাজ। রঙের কাজ শেষ হলেই দেবী দূর্গা পাটে বসবে। শুরু হবে পূজার মহোৎসব। হিন্দু ধর্মালম্বীদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। পূজা উৎসবের আমেজে হিন্দু পাড়াগুলোতে চলছে সাজ সাজ রব। পূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।

পূজা উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজও প্রায় শেষের দিকে। এবার প্রতিমা তৈরিতে ছেলে কারিগদের পাশাপাশি মেয়ে কারিগরদেরও কাজ করতে দেখা গেছে। দিন রাত সমান তালে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ করছে।

এবারে উপজেলার দশটি ইউনিয়নের মধ্যে মহাদেবপুর সদর ইউনিয়নে ২১টি, হাতুড় ইউনিয়নে ৯টি, খাজুর ইউনিয়নে ১৫টি, চাঁন্দাশ ইউনিয়নে ৮টি রাইগাঁ ইউনিয়নে ১৪টি, এনায়েতপুর ইউনিয়নে ১৬টি, সভাপুর ইউনিয়নে ২১টি, উত্তরগ্রাম ইউনিয়নে ২৩টি, চেরাগপুর ইউনিয়নে ১৬টি ও ভীমপুর ইউনিয়নে ১৭টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এ উপজেলাই মোট ১৬১টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মহাদেবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মুলতান হোসেন ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অজিত কুমার মান্ডল।

এলাকার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, সব জায়গাতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। প্রতিমা তৈরির কারিগররা জানান, বছরের এই সময়টা ব্যাস্ততায় কাটালেও অন্য সময় তাদের হাতে থাকেনা কোন কাজ। বছরে একবার কঠোর পরিশ্রম করে, বাকী সময় তাদের কাটাতে হয় মানবেতর জীবন-যাপন। ধর্মীয় টান ও বাপ-দাদার পেশা হওয়ায় এখনও তারা এই পেশাটিকে কোন রকমে টিকিয়ে রেখেছেন। ইতোমধ্যেই অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আসমা খাতুন ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজনদেরকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।