মিডিয়া আসল তথ্য প্রকাশ না করলে ৩৮৪ বছর কারাদণ্ড হত জাহালমের!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০২:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

২০১৪ সালে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে জাহালমকে শনাক্তসহ ৩৩টি মামলা করে দুদক। তবে সালেককে তলব করা দুদক চিঠি পৌঁছায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে জাহালমের বাড়ির ঠিকানায়।

এরপর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই মামলায় ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক। সংবাদ মাধ্যমে প্রচার, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ আর দুদকের মহাপরিচালকের (আইন) তদন্তে জাহালমের নির্দোষের বিষয়টি জানা যায়। এরই মধ্যে দীর্ঘ তিন বছর বিনা অপরাধে কারাভোগের শিকার জাহালমকে ২৬ মামলা থেকে অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট।

দুদকের করা ভুল মামলায় দীর্ঘ তিন বছর কারাভোগের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ৩ ফেব্রুয়ারি রোববার রাতে মুক্তি পান পাটকল শ্রমিক জাহালম। পাঁচ বছর আগে সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দেওয়া ৩৩টি ভুল মামলায় তাকে ৩৮৪ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে আদালতের নজরে আসে। জাহালম বলেন, আমি বারবার বলেছি- আমি গরীব মানুষ, আমি এত টাকা ঋণ করবো কেন? স্যার আমি জাহালম, আবু সালেক না। আমি নির্দোষ। কিন্তু কোনও কথাই সে সময় পুলিশ কিংবা দুদক শোনেনি। ফলে আসল আসামি সালেকের পরিবর্তে আমাকে ৩ বছর কারাভোগ করতে হয়েছে বিনা দোষে। ওই সময় আমাকে মারপিটও করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া আসল তথ্য প্রকাশ না করলে আমাকে হয়ত জেলেই পচে মরতে হত। আমাকে মুক্ত করায় মিডিয়ার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমিও চাই প্রকৃত দোষীর শাস্তি হোক।

তার মতো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে যেন দুদক না ফাঁসাতে পারে সেজন্য দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচার দাবী করেন তিনি।