মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে মানহানিকর খবর প্রকাশে ঢাবির ফজলুল হক হল ছাত্রলীগের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ | আপডেট: ১১:১১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ফটোকপি করা ও দাম বেশি রাখাকে কেন্দ্র করে ১৭ ডিসেম্বর দোকানী রাসেলের সাথে বাকবিতন্ডা হয় কয়েকজন ছাত্রের। কিন্তু এই ঘটনাকে মারধর, চাঁদাবাজি প্রভৃতি দিকে নিয়ে গিয়ে মান হানিকরভাবে খবর প্রকাশ করা হয়। এই ধরণের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে খবর প্রকাশে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

‘ঢাবি ক্যাম্পাসে তিন টাকার জন্য দোকানদারকে মারধর’ শিরোনামে গত ৭ জানুয়ারী সোমবার একটি খবর প্রকাশ করে একটি অনলাইন পোর্টাল। তাদের দাবি ছিল এমন যে, ফটোকপি করার পর তার দাম বেশি রাখায় দোকানদারকে মারধর করে হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে ঘটনাটি মিটে গেলেও বেশ কয়েকদিন পর আবার তাকে মারাধর করে চাঁদা দাবি করে যায় তারা। এমন একটি খবর অনলাইনে প্রকাশ পাওয়ার পর আরো কয়েকটি অনলাইন পোর্টালেও প্রকাশ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরের দিন (৮ জানুয়ারি) একটি দৈনিক পত্রিকায় লিখিত আকারে প্রকাশিত হয়। এমন ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংবাদে উল্লেখিত ছাত্রদের নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

অনলাইনে এবং পত্রিকাতে এমন মিথ্যা ঘটনার সাথে নিজেদের নাম দেখে বিচলিত হয়ে পড়ে ছাত্ররা। এর প্রতিবাদে তারা ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যাক্ষ বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়।

দি বাংলাদেশ টুডে’র সাথে আলাপকালে ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব জানান, “ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। অনেকদিন ধরেই ফটোকপির মূল্য বেশি রাখা নিয়ে দোকানদারের সাথে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়ে আসছে। ঘটনার দিন সোহাগ ১৮ পৃষ্ঠা ফটোকপি করার পর রাসেল ভাই ৩৮ টাকা বিল দাবি করে যা রীতিমত অন্যায়। নীলক্ষেত বা আশেপাশের দোকানগুলোতে এই মূল্য এর অর্ধেকেরও কম। আমরা বারবার নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা দোকানে টানিয়ে দিতে অনুরোধ করলেও দোকানদার রাসেল ভাই তা করেননি। আমি যখন জানতে পারি, ততক্ষণে দোকান মালিক ও অন্যান্য সিনিয়রদের মধ্যস্থতায় সেটা মিটে যায়।

দোকানদার রাসেল পরবর্তীতে তার এই অন্যায় ঢাকতে নিজেই সকলকে নিয়ে বাইরে খেতে যেতে চায় যা সরাসরি আমরা প্রত্যাখ্যান করি। পরবর্তীতে রাসেল ভাই তার মালিক জাহাঙ্গীরের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে হল ডাইনিংয়ে খাবারের আয়োজন করতে বলে। সেখানে দোকানের দু’জন মালিক ওয়াজেদ ভাই এবং জাহাঙ্গীর ভাই উপস্থিত ছিলেন। আমরা এই অন্যায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি এবং শুধুমাত্র রাসেল ভাইয়ের দোকানে নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা টাঙ্গানোর অনুরোধ করি। টাকার ব্যাপারে জাহাঙ্গীর ভাই’ই ভাল বলতে পারবেন।”

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকাশিত খবরে তাদের নামে চাঁদা নেয়ার যে অভিযোগ করা হয়, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জাহাঙ্গীরের কাছেই টাকাগুলো রয়েছে এবং সে একটি ভিডিওবার্তায় স্বীকারও করেছে। ভিডিওবার্তাটি দি বাংলাদেশ টুডে’র কাছে সংরক্ষিত আছে।

নাজমুস সাকিব আরো বলেন, “মারধরকারী হিসেবে আমিসহ হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, মমিন ইসলাম, মো. আবু মূসা শুভ, শাহরিয়ার পাশা ও সদস্য মোস্তফা কামাল পাশাসহ যাদের নামে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে সহঃ সম্পাদক আরমান হোসেন সোহাগ ও সমাজসেবা সম্পাদক মো. শামীম হোসাইন ছাড়া কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক মুসলিম হলের ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিন ইসলাম বলেন, ছাত্রদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদই আমাদের জন্যে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন এক অসাধু চক্র হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ভাই, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ভাই এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাই নতুন কমিটি ঘোষণার আগে আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ রটাতেই মূল ঘটনাকে এভাবে বিকৃত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা হলের প্রাধ্যাক্ষ বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। ঘটনার সত্যতা যাচাইপূর্বক এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

খবরটি প্রকাশের সততা যাচাইয়ে অনলাইন পোর্টালগুলোতে নিউজটি খোঁজা হলেও সেটা পাওয়া যায়নি। কিন্তু ফেসবুকে সার্চ করে ঐ বিষয়ক একটি পোষ্ট পাওয়া গেছে।

এমন একটি খবর প্রকাশের ফলে নিজেদের সম্মানহানি হয়েছে বলে মনে করেন অভিযোগকৃত ছাত্ররা। তারা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত খবরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।