মিথ্যা মামলা দিয়ে বিপাকে বাদী ও পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৪৫:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮

কুষ্টিয়ায় মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মামলার বাদী ও মামলা রেকর্ডকারী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামী আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে এই নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর থানার চরসালিমপুর গ্রামের মৃত পঞ্চানন কর্মকারের স্ত্রী সুচিত্রা কর্মকারকে তার পুত্র আসামী সুশান্ত কর্মকার ও পুত্রবধূ সুবর্ণা কর্মকার ঠিকমত খাবার না দিয়ে গালমন্দ করতো। তাদেরকে বিষ খেয়ে কিংবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার জন্য প্ররোচনাও দিতেন তারা।

এমন অভিযোগে নিহতের ভাইয়ের ছেলে চিত্তরঞ্জন কর্মকার বাদী হয়ে নিহতের পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৫৭, তারিখ ২৮/৬/২০১৭, যার জি.আর মামলা নং- ২৮৬/২০১৭ ও সেসন- ৫৭/২০১৮)।

আদালতের এই আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে সরকারি কৌশলী অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, মাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় দায়েরকৃত মামলা তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন পুলিশ।

দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সে কারণে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ঐ মামলার আসামীদের যে ভোগান্তি দেয়া হয়েছে, তার একটা ন্যায় ও সুবিচার হোক।

আজ মঙ্গলবার আদালত এই রায় ঘোষণার সময় মামলার আসামি শ্রী সুশান্ত কর্মকার ও স্ত্রী সুবর্ণা কর্মকারকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। একই সাথে পেনাল কোড- ১৮৬০ এর ২০৩ ধারায় এজাহারকারী শ্রী চিত্তরঞ্জন কর্মকার ও দৌলতপুর থানার তৎকালীন মামলা রেকর্ডকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মিথ্যা মামলা দায়েরকারী এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।