মিয়ানমার থেকেও এক লাখ টন চাল কিনবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২১ | আপডেট: ৫:৪৮:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২১

রোহিঙ্গা বিষয়ক সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনের মধ্যেই দেশটি থেকে চাল কিনতে যাচ্ছে সরকার। মিয়ানমারের চাল ও ধান ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের বরাত দিয়ে গতকাল রোববার এই খবর প্রকাশ করে মিয়ানমার টাইমস।

খবরে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন চাল কেনার জন্য আলোচনা করছে বাংলাদেশ। জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে এই চাল কেনা হবে।

ব্যাংকক পোস্টের সহযোগী এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সোমবার বলা হয়েছে, সরকারি পর্যায়ের এই চুক্তিতে দরদাম কী হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।

মিয়ানমারের খাদ্যশস্য সংগঠনের সেক্রেটারি ইউ অং মিন্ট পত্রিকাটিকে বলেছেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে আমরা দাম নিয়ে আলোচনা করবো। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো গেলে সমুদ্রপথে এই চাল পাঠানো হবে।’

চাল উৎপাদনে বিশ্বের ৭তম দেশ মিয়ানমার। এবার তারা রপ্তানিতেও এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ মনোযোগী হয়েছে। বর্তমানে মিয়ানমার সরকার ২০ লাখ টন চাল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। এতে দেশটির আন্তর্জাতিক চালের বাজারে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তারা স্থল এবং জলপথের মাধ্যমে ৬৫টি দেশে চাল রপ্তানি করে থাকে। তাদের রপ্তানির বড় একটি অংশ যায় চীনে।

মিয়ানমার থেকে সর্বশেষ তিন বছর আগে চাল আমদানি করে বাংলাদেশ।

মিয়ানমারের খাদ্যশস্য অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, যেহেতু সরকার-টু-সরকার আলোচনা হচ্ছে তাই শেষ পর্যন্ত এবার চুক্তি হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে টেন্ডারের প্রয়োজন হবে না।

মিয়ানমার বলছে, ব্যাটে-বলে মিলে গেলে ফেব্রুয়ারি নাগাদ তারা বাংলাদেশে চাল পাঠাতে চায়।

এই খবর এমন সময় আসল, যখন দেশটির স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রাখাইন রাজ্য সরকারের কাছে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসার অনুমতি চাচ্ছেন। করোনার কারণে প্রায় বছরখানেক ধরে সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত।

মিয়ানমার এখন চাল পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। দেশটি ১৫ হাজার টন চাল অর্ডার করেছে। ফিলিপাইনও চেষ্টা করছে তাদের থেকে চাল নিতে।