মির্জাগঞ্জে আয়রন ব্রিজ ভেঙ্গে মাদ্রাসা সুপারের মৃত্যু, যোগাযোগ বিছিন্ন

উত্তম গোলদার উত্তম গোলদার

মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৫:৫০:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মহিষকাটা বাজারের পূর্ব পাশে শ্রীমন্ত নদীর উপর মহিষকাটা-আন্দুয়া কলাগাছিয়া সংযোগ আয়রন ব্রিজটি ভেঙে ১জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া আটটার দিকে।

নিহত মো. আইয়ুব আলী উপজেলার কলাগাছিয়া আছমতিয়া এন্তাজিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের নলদয়ানি গ্রামে। আহতদের মধ্যে কলাগাছিয়া আছমতিয়া এন্তাজিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান, অফিস সহকারী মোঃ শাহজাদা, রনি,মিরাজ,মাওলানা আবুল কালামসহ একটি অটোরিকশা এবং অটোরিকশার ড্রাইভার ও যাত্রী রয়েছেন।

ওইদিন সন্ধ্যায় একটি আটোবাইক ও মোটরসাইকেলসহ ১০/১৫ জন লোক ব্রিজটি পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদেরকে উদ্বার করে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ব্রিজ ভেঙে যাওয়া উভয় পারের বাসিন্দাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার মাদ্রাসায় বিভিন্ন পদে নিয়োগের তারিখ থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য মাদ্রসার সভাপতি ইঞ্জিঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান ঢাকা থেকে প্রাইভেট কার যোগে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে মহিষকাটা বাজারে এসে পৌছালে, এ খবর পেয়ে মাদ্রাসার সুপারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও অফিস সহকারী মহিষকাটা বাজারে সভাপতিকে নিতে আসেন। একত্রে গাড়ি যোগে ব্রীজের উপর দিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে ব্রীজের মাঝ খানে পৌছালে অণ্যদিক থেকে একটি ইজিবাইক যাত্রী নিয়ে ব্রীজ পারাপারের সময়ে ব্রীজটি ধসে পরে এবং ব্রীজের সকলে নদীতে পড়ে আহত হয়। আহতদের অনেকেই সাঁতার কেটে নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মাদ্রাসার সুপার নিখোঁজ হয়।

নিখোঁজ হওয়ার দুই ঘন্টার পরে ঘটনাস্থলের দুইশতফুট দক্ষিন দিক থেকে মাদ্রসা সুপারের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা ও ফায়র সার্ভিসের লোকজন। এ ঘটনার পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন, মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ শওকত আনোয়ার ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ দুভোর্গে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। প্রসঙ্গতঃ গত ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারী বেরেরধন খালের উপর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ডোকলাখালী- পাশ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ সংযোগ আয়রন ব্রীজটি একটি ধান বোঝাই ট্রলার যাওয়ার সময় ধাক্কা লাগে ভেঙ্গে যায়। বেরেরধন খালের উপর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ডোকলাখালী – পাশ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ সংযোগ ব্রীজও ঝূকিপূর্ন অবস্থায় পরে আছে অনেক বছর। ফলে দুই উপজেলার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সরোয়ান হেসেন জানান, দুর্ঘটনার পরেই উপজেলা চেয়ারম্যান স্যার ও আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং যাত্রীদের পারাপারের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পটুয়াখালী এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর ছত্তার বলেন, মির্জাগঞ্জে যে কয়টি ঝূকিপূর্ন ব্রীজ রয়েছে তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সাইবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক স্যারকে অবহিত করাসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যাতে ওই স্থানে অতি দ্রুত ব্রীজ নির্মানের ব্যবস্থা করা হয়।