মির্জাগঞ্জে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এসএসসি পরিক্ষার্থীসহ ১১ জনের মৃত্যু

উত্তম গোলদার উত্তম গোলদার

মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২১ | আপডেট: ৬:১৪:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২১

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মা-মেয়েসহ ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত রবিবার ২৬১জন ও গতকাল সোমবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নতুন ৪৫ জনসহ ৩০৬জন রোগী রয়েছে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অনেকে আবার করোনা সংক্রমণের ভয়ে হাসপাতালে আসছেন না। বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ভ্যাপসা গরম ও আকস্মিকভাবে স্থানীয় পায়রা ও শ্রীমন্ত নদে লবন পানি প্রবেশ করায় রান্নাসহ যাবতীয় কাজে লবন পানি ব্যবহার করায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে এমনটা বলছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

তবে এদের কেউই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন না। গত তিনদিনে ডায়রিয়ায় মৃত ব্যক্তিরা হলেন, মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠাঁলতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সমাদ্দার কাঠী গ্রামের রাকিব খন্দকারের মেয়ে সাহারা সানফুল (১৫), উত্তর মাধবখালী গ্রামের মৃত মহব্বত আলী হাওলাদারের ছেলে মন্নাফ হাওলাদার (৫০), মাধবখালী গ্রামের মৃত্যু বন্দে আলী সিকদারের ছেলে মো. নুর মোহম্মদ সিকদার (৮০) ও উত্তর মাধবখালী গ্রামের দেনছে আলী সিকদারের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৫৫)।

মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃত্যু ফরমান সিকদারের ছেলে আলীম উদ্দিন সিকদার(৭৫), একই গ্রামের মৃত্যু গনি হাওলাদারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭০), মৃত্যু করিম নেগাবানের মেয়ে ফরিদা বেগম(৫০),ভাজনা কদমতলা গ্রামের মো. শাজাহান হাওলাদের পুত্র মো. সোবাহান হাওলাদার(৫৬),মো. ইউনুচ হাওলাদারের স্ত্রী কদবানু(৭০) ও ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের রাখাল চন্দ্র মালীর ছেলে বীরেন মালী(৫৫) এবং মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামের মৃত ইকরাম সিকদারের ছেলে আলেক সিকদার (৫০) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৯৩জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেøেক্স ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গত ৭দিনে উপজেলায় ডায়রিয়ার আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪৯ জনে দাড়িঁয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৬১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্তের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা মাত্র ১৫টি। গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের নির্ধারিত ওয়ার্ডের শয্যায় শয্যা সংকটের কারনে ৪র্থ তলার বারান্দায়ও রোগীদের সংকুলান না হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে একই ভবনের ৩য় তলা ও রবিবার থেকে ২য় তলার ফ্লোরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রোগীদের। এদিকে উপজেলার চৈতা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গতকাল রবিবার ৪৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং সেখানে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে তাবু টানিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হয়েছে বলে কর্মরত চিকিৎসক জানান। কিন্তু মাধাবখালী ২০ শয্যা হাসপাতালটি চালুর কয়েক দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালটি মাত্র একজন মেডিকেল উপনহকারি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে এই মহামারি ডায়রিয়ার সময়ে ওই হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার দাবী জানান স্থানীরা।

মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মো. লিটন সিকদার বলেন, পায়রা নদী তীরবর্তী এ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের বাড়ি বাড়িতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী রয়েছে। অনেকে হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নদীর পানি লবন হওয়াতে ডায়রিয়া প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন মহামারি আকার ধারন করেছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, হাসপাতালে ভর্তি কোন ডায়রিয়ার রোগী এখন পর্যন্ত মারা যায়নি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর মৃত্যুর খবর জানা গেছে। তিনি আরও জানান, বিগত বছরগুলোতে কখনো এত ডায়রিয়া রোগী আসে নাই। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্যালাইনের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় আনুপাতিক হারে রোগীদের স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্যালাইনের জন্য সিভিল সার্জন বরাবর আবেদন করা হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই স্যালাইনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি) এর কনসালট্যান্ট ডাঃ মোঃ সাইফুল আজম (রঞ্জু) এর ব্যাক্তগত উদ্যোগে সোমবার ডয়ারিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের দুই শত ব্যাগ কলেরা স্যালাইন হস্তান্তর করেছেন। তবে অন্যান্য ওষুধ সংকট নেই বলে তিনি জানান।