মির্জাগঞ্জে নিলামের আগেই বিদ্যালয়ের মালামাল ও গাছ বিক্রি করলেন সভাপতি

উত্তম গোলদার উত্তম গোলদার

মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২১ | আপডেট: ৮:১৫:অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২১

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের উত্তর বাজিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনশেড ভবনের মালামাল ও ৩৭টি গাছ নিলামের আগেই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে।

এমনকি নৈশ প্রহরী বিদ্যালয়ের সামনেই পুরাতন ভবনের টিন দিয়ে দোকন ঘর নির্মাণ করে দোকান চালাচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

নিলাম ছাড়া বিদ্যালয়ের পুরাতন মালামাল বিক্রি করা যাবে না বলে জানান উপজেলা শিক্ষা অফিস। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. হালিম মোল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বহুমূখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের সহযোগীতায় বিদ্যালয়টি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ অনুমোদন হলে উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ পুরাতন ভবনটি নিলামের জন্য ষ্টিমিট তৈরী করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছেন। অথচ পুরাতন টিনশেড ভবন, লাইব্রেরী ও ৪টি বাদরুম ভেঙ্গে কিছু মালামাল বিক্রি করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল হক এবং বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী মো. নুরুজ্জামান ফকির টিন নিয়ে দোকান ঘর নির্মাণ করেন। তারা দু’জনেই বিদ্যালয়ের পুরাতন ইটগুলো নিজেদের বাড়িতে রেখেছেন।

তবে সভাপতি কত টাকায় পুরাতন ইট বিক্রি করেছেন তা জানা যায়নি। নৈশ প্রহরী বিদ্যালয়ের সামনেই পুরাতন টিন দিয়ে দোকন ঘর নির্মাণ করেছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাদারন সম্পাদক মো. হালিম মোল্লা বলেন, উত্তর বাজিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০-২০ ফুট টিনশেড ভবন স্কুল, লাইব্রেরি ২০-২০ফুট ও বাদরুম ৪টি ভেঙ্গে নিলামের আগেই ভেঙ্গে মালামাল ও গাছ বিক্রি করেন সভাপতি।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা মো. বজলুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর আগেই সভাপতি বলেছেন পুরাতন টিনশেডের ভবনটি নিলাম হয়েছে। নিলামের কথা বলে সভাপতি- নিজেই ক্রয় করছেন তাই পুরাতন ভবনের মালামাল বিক্রি করেছেন বলে জানান।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল হক বলেন,বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলামের জন্য ষ্টিমিট শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনটি ভেঙ্গে মালামাল আমার বাড়ি ও বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীর বাড়িতে রাখা হয়েছে। কিছু মালা বিক্রি করেছি।

প্রধান শিক্ষক মোসা. সাহিদা বেগম বলেন, পুরাতন মালামালের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। সভাপতির জিম্মায় রাখা হয়েছে মালামাল। সরকারি মালামাল নিলামের আগেই বিক্রি করে থাকলে তিনি তা ফেরৎ দিবেন। উপজেলা প্রকৌশলী মো. শেখ আজিমুর রশিদ বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উপজেলার উত্তর বাজিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ অনুমোদন হলে পুরাতন ভবনের ষ্টিমিট তৈরী করে রেজুলেশনের মাধ্যমে নিলামের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরন করা হয়েছে। তবে সভাপতি নিলামের আগে মালামাল বিক্রি করে থাকেন তবে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রি করে থাকলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে মালামাল ফেরৎ চেয়ে চিঠি দেয়া হবে এবং বিক্রিত মালামালের অর্থ ফেরৎ আনা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. তানিয়া ফেরদৌস বলেন, সরকারি যে কোন মালামাল টেন্ডার দিয়ে বিক্রি করতে হবে। তবে বিদ্যালয়ের সভাপতি পুরাতন ভবনের মালামাল বিক্রি করে থাকলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাথে আলাপ করে তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।